• facebook
  • twitter
Friday, 3 April, 2026

চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উত্থান, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে উদ্বেগ

কম খরচে উপলব্ধ হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই মডেলগুলি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর সংস্থাগুলির আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়ছে চিনের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির। আর তাতেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্টে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে চীনা মডেলের অংশ ছিল মাত্র ১ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে, যা নজিরবিহীন বৃদ্ধি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চীনের বিভিন্ন সংস্থা, যেমন আলিবাবা, এবং নতুন সংস্থা যেমন ডিপসিক, মুনশট এআই ও মিনিম্যাক্স—এই সংস্থাগুলির তৈরি মডেল এখন গবেষণা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

Advertisement

তবে এই সাফল্যের সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে উদ্বেগের একাধিক দিক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সব এআই মডেল চিনের আইনি কাঠামোর মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে সংস্থাগুলিকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে বাধ্য করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীদের তথ্য সরকারি দপ্তরের হাতে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বহু ব্যবহারকারী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—যেমন ব্যবসার কৌশল, গোপন নথি বা সফটওয়্যার কোড—এই এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করছেন। এর ফলে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। রিপোর্টে চারটি বড় উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—এআই সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা, সাইবার অপরাধীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় প্রভাব।

বিশেষ করে ‘ব্যাকডোর’ বা লুকিয়ে থাকা ত্রুটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত ডেটাসেটের মাধ্যমে ক্ষতিকর নির্দেশনা এআই মডেলে ঢুকে পড়লেও তা সহজে ধরা যায় না বলেও জানানো হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, অনেক ক্ষেত্রেই এই এআই পরিষেবা ব্যবহারকারীর তথ্য চীনে অবস্থিত সার্ভারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করে, বিশেষত যখন অ্যাপ্লিকেশন ইন্টারফেসের মাধ্যমে এই মডেল ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, পশ্চিমী দেশের তুলনায় চীনা এআই মডেলগুলিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে দুর্বল—ফলে সেগুলি অপব্যবহারের ঝুঁকি বেশি। যেমন ক্ষতিকর কোড তৈরি বা সাইবার হামলায় সহায়তা করা।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কম খরচে উপলব্ধ হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই মডেলগুলি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর সংস্থাগুলির আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

তবে রিপোর্টে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বদলে স্বচ্ছতা, ন্যূনতম নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং সরবরাহ শৃঙ্খলার জবাবদিহিতার উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঝুঁকি কমিয়ে প্রতিযোগিতাও বজায় রাখা যায়।

Advertisement