নাসার হাত ধরে ফের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। প্রায় ৫০ বছর পর আবার চাঁদে বুকে পা দিতে চলেছে মানুষ। চাঁদের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে ‘আর্তেমিস ২’ মহাকাশ যান। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযান। এই অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে ৩২২ ফুট উচ্চতার শক্তিশালী ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ ।
এই মিশনের চার সদস্য হলেন কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হানসেন। এঁদের মধ্যে আমেরিকার তিন জন এবং কানাডার এক জন নভশ্চর রয়েছেন। মহাকাশচারীরা চাঁদের মাটিতে পা দেবেন না। মহাকাশযান চাঁদের খুব কাছাকাছি গিয়ে হাজার মাইল প্রদক্ষিণ করে প্রায় ১০ দিনের মধ্যে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। আগামী ১০ দিন ঘণ্টায় প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে মহাকাশযানটি চাঁদে প্রদক্ষিণ করবে এবং নভশ্চররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন।
Advertisement
এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হল ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। ভবিষ্যতে মানুষকে নিরাপদে চাঁদে অবতরণ করানোর প্রস্তুতির জন্য এই পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মহাকাশে মানুষের অবস্থান ও কাজের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সুবিধা ও চ্যালেঞ্জগুলিও বিশ্লেষণ করা হবে।
Advertisement
মহাকাশচারীরা ব্যক্তিগত কিছু জিনিসও সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন—যেমন ভিক্টর গ্লোভারের বাইবেল, জেরেমি হ্যানসেনের পরিবারের পেনডেন্ট, রিড ওয়াইসম্যানের নোটপ্যাড ও পেন্সিল এবং ক্রিস্টিনা কচের প্রিয়জনদের হাতে লেখা বার্তা।
উল্লেখ্য, শেষবার মানুষ চাঁদে পা রেখেছিল ১৯৭২ সালে অ্যাপোলোর মাধ্যমে। নাসা জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যেই আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই কাজে সহায়তা করবে স্পেশ এক্স ও ব্লু অরিজিনের মতো কিছু বেসরকারি সংস্থা।
Advertisement



