• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 13 June, 2026

মালদহের ঘটনায় মুখ্যসচিব-ডিজিকে শোকজ সুপ্রিম কোর্টের

প্রয়োজনে সিবিআই-এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

মালদহের কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।  রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজিপি, মালদহের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে শোকজ নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে আদালতের উপরই হামলা বলে মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ‘ঘটনার তদন্ত সিবিআই বা এনআইএ -এর হাতেই তুলে দিতে হবে’।

রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সকালেই মালদায় এসআইআর-এর কাজে যাওয়া সাত বিচারপতিকে ঘেরাওয়ের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। যদিও কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল একটি চিঠি লিখে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান। সেই চিঠির উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারকদের রাত ২টো পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকার খবর তাঁরা পেয়েছিলেন এবং বিষয়টি গভীর উদ্বেগজনক।

বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনা সরাসরি এসআইআর-এর কাজে বাধা দেওয়া, পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। এটা একটা পরিকল্পিত আক্রমণ বলেও জানিয়েছেন তিনি। অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে বলেন, ‘বুধবার রাত একটা পর্যন্ত আমি নিজে জেগে থেকে ঘটনা মনিটর করেছি। লজ্জাজনক ঘটনা এবং নিন্দনীয়। আপনারা সবাই রাজনৈতিক মতাদর্শের উপরে ভিত্তি করে আচরণ করছেন। এমন রাজনৈতিক মেরুকরণ গোটা দেশের কোথাও দেখিনি।’

শীর্ষ আদালত জানায়, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেউ যেন বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে। আদালত আরও জানায়, ঘটনাস্থলে জেলাশাসক বা পুলিশ সুপার কেউই পৌঁছননি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে ডিজিপি ও স্বরাষ্ট্রসচিব সক্রিয় হন। রাত ১২টার পর জুডিশিয়াল অফিসাররা মুক্তি পান। তবে ফেরার সময়ে তাঁদের গাড়িতে পাথর ছোঁড়া ও লাঠি নিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ দিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘কমিশনকে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’ জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং তাঁদের বাসভবনেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও আধিকারিক বা তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকে, তা দ্রুত মূল্যায়ন করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় মালদহের বিভিন্ন জায়গায় অসন্তোষ দানা বাঁধে। বুধবার সকাল থেকে ক্ষোভ জমতে শুরু করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতা কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে এসআইআরের কাজে যাওয়া সাতজন বিচারককে দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাঁদের মধ্যে তিনজন বিচারক, একজন মহিলা-সহ, উপস্থিত ছিলেন। গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

আগামী সোমবার, ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সেদিন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তার জবাব চাওয়া হয়েছে।