দক্ষিণ আমেরিকার দেশ হাইতিতে ভয়াবহ গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র দুষ্কৃতী বাহিনীর বিরুদ্ধে। সে দেশের আর্তিবোনাইত অঞ্চলে পুরনো গোষ্ঠীহিংসার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে। এক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ‘গ্রান গ্রিফ গ্যাং’-এর ভয়াবহ হামলায় মহিলা, শিশু-সহ অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ৩ বছর ধরে হাইতিতে ধারাবাহিকভাবে গোষ্ঠীহিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার জেরে প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, পুরনো গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরেই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বিরোধী গ্যাং ‘ভিভ আনসান’ গ্রান গ্রিফ গ্যাংয়ের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করে। এরই প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা।
Advertisement
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় দুষ্কৃতীরা রাস্তা কেটে ব্যারিকেড তৈরি করে এলাকা ঘিরে ফেলে যাতে নিরাপত্তা বাহিনী সহজে প্রবেশ করতে না পারে। এরপর এলোপাথাড়ি গুলি ও বিস্ফোরণের তাণ্ডব চালানো হয়। সোমবার স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
Advertisement
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী গ্যারি কনিল। তিনি এটিকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশটিতে অপরাধচক্র এতটাই শক্তিশালী যে সরকারের পক্ষে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে হাইতিতে লাগাতার গোষ্ঠীহিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গোষ্ঠী হামলায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ ।
Advertisement



