• facebook
  • twitter
Monday, 30 March, 2026

ভক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মন্মথপুরে বাসন্তী পূজা ও প্রণব মহামিলন মেলা

এই মহামিলন মেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব চিত্র

দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার মন্মথপুরে ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির এক অনন্য আবহে সাড়ম্বরে পালিত হল শ্রীশ্রী বাসন্তী মাতার পূজা। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ-এর গ্রামীণ সেবা কেন্দ্র মন্মথপুর প্রণব মন্দিরের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে ছয়দিনব্যাপী ‘শ্রীশ্রী প্রণব মহামিলন মেলা’ যেন পরিণত হয়েছিল ভক্তদের এক মহাসমাগমে।

এ বছর এই মেলার ৯তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ-এর গৌরবময় ১৩১তম শুভ আবির্ভাব বর্ষ উদযাপন মেলাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ১৩১টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে মাতৃমূর্তি উন্মোচনের মুহূর্ত ভক্তদের আবেগে ভরিয়ে দেয়। উদ্বোধনী দিনেই উপস্থিত ছিলেন সন্ন্যাসী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

Advertisement

ছয়দিনের এই মহামিলন মেলায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। মায়েদের ‘লক্ষ্মী চরিত্র পাঠ’, শঙ্খধ্বনি প্রতিযোগিতা, রামায়ণমহাভারত-ভিত্তিক কুইজ, এবং স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ ও কপিলমুনি-গঙ্গাসাগর সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব ভক্তদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলার আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

Advertisement

মহাসপ্তমীর দিন মন্মথপুর প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দিরে ১৩১ জন ছাত্রছাত্রী তাঁদের পিতা-মাতার পূজা করে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করে। মহাঅষ্টমীতে ১৩১ জন মা অন্নপূর্ণা পূজায় অংশ নেন, পাশাপাশি কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা ভক্তিভরে সম্পন্ন হয়। মহানবমীতে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আরাধনায় ১৩১ জন শিশু অংশগ্রহণ করে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

পুরো মেলা জুড়ে ভক্তদের উচ্ছ্বাস, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আধ্যাত্মিক আবহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এলাকার মানুষের মতে, এই মহামিলন মেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।

Advertisement