• facebook
  • twitter
Thursday, 26 March, 2026

প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করতে হবে ডাক্তারদের, নির্দেশ কমিশনের

দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত বা চাকরি হারানো শিক্ষকদের কোনওভাবেই নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভার আগে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন।  ভোট পরিচালনার কাজে এবার চিকিৎসকদেরও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারি হাসপাতালের বহু চিকিৎসকের হাতে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে। একইসঙ্গে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত বা চাকরি হারানো শিক্ষকদের কোনওভাবেই নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। অনেকের আশঙ্কা, এমনিতেই সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি, তার উপর চিকিৎসক সংকটও রয়েছে বহু জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের ভোটের কাজে নিযুক্ত করা হলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যদিও কমিশনের বক্তব্য, সমস্ত দায়িত্ব বণ্টন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের মাধ্যমেই করা হয়েছে।

Advertisement

অন্যদিকে, বাস্তবে কিছু অসঙ্গতিও সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে চাকরিহারা শিক্ষকদের নামেও ভোটের ডিউটির নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে কমিশনের ব্যাখ্যা, পুরনো তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে এই ভুল হয়েছে। তবে দ্রুত সেই তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

Advertisement

কমিশন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে—কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। তবুও কিছু জায়গায় এই নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে এমন একটি ঘটনা সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আরামবাগের প্রফুল্ল চন্দ্র সেন সরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালে একসঙ্গে ৪৯ জন চিকিৎসককে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। সহকারী অধ্যাপক-সহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের এই দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সব মিলিয়ে ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কমিশনের একাধিক পদক্ষেপ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়েই এখন প্রশাসন, স্বাস্থ্যক্ষেত্র এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

 

Advertisement