পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে কেন্দ্র করে চলা সংঘাত নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা বিশ্বজুড়েই অর্থনীতি, জ্বালানি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এখন থেকেই সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, ভারত বরাবরই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতী। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে এবং সংঘর্ষ বন্ধের আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘যুদ্ধ কোনও সমস্যার সমাধান নয়, এতে শুধু মানুষের ক্ষতি হয়। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতে একজন মানুষের জীবনও বিপন্ন হলে তা মানবতার পক্ষে ক্ষতিকর।
Advertisement
দেশবাসীর উদ্দেশে মোদী শান্ত থাকার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি করোনাকালের উদাহরণ টেনে বলেন, সেই কঠিন সময়ও দেশবাসী একসঙ্গে লড়াই করে পরিস্থিতি সামলেছিল। এবারও সেভাবেই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, এই ধরনের সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি বা অসাধু কাজ বাড়তে পারে, তাই কেন্দ্র ও রাজ্য— উভয় প্রশাসনকেই সজাগ থাকতে হবে।
Advertisement
বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ভারতীয়দের সাহায্যে দূতাবাসগুলি ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইরান থেকে ফিরেছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন মেডিক্যাল পড়ুয়া। আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধের প্রভাব দেশের কৃষিক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সবরকম পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। গত এক দশকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং তেলের আমদানির উৎসও বাড়ানো হয়েছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, দেশের উপকূল, সীমান্ত, সাইবার নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাঁর বার্তা, ধৈর্য, সতর্কতা ও একতার মাধ্যমেই এই বৈশ্বিক সঙ্কটের মোকাবিলা করা সম্ভব।
Advertisement



