বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেগঙ্গায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সদস্য মফিদুল হক মিন্টু সাহাজি আচমকাই দল ছেড়ে যোগ দিলেন আইএসএফে এবং সেখান থেকেই প্রার্থী হলেন। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াতেই কড়া পদক্ষেপ নেয় শাসকদল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত ১৭ মার্চ তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। দেগঙ্গা আসনে প্রার্থী করা হয় ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান বিদেশকে। তবে ওই আসনে মিন্টু সাহাজির নাম নিয়েও জল্পনা ছিল। প্রার্থী না হতে পেরে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। দলীয় প্রার্থীকে ঘিরে একাধিক সমালোচনা করেন এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর পোস্টে দাবি করা হয়, আগের তুলনায় জয়ের ব্যবধান কমেছে এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে পরাজিত বুথের সংখ্যা বেড়েছে।
এই পোস্টগুলি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই এলাকায় আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম দিয়ে পোস্টার পড়তে দেখা যায়, যা জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।
এই প্রসঙ্গে বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তাঁরা বারবার মিন্টু সাহাজির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্যও ফোন করা হয়, কিন্তু কোনওভাবেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। দলের সঙ্গে এই দূরত্বই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
সোমবার আইএসএফ তাদের প্রথম দফার ২৩ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করলে সেখানে দেগঙ্গা আসনে মিন্টু সাহাজির নাম সামনে আসে। এর পরেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তৃণমূল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। দলের তরফে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা হল। ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ডা. কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
Advertisement