• facebook
  • twitter
Sunday, 22 March, 2026

দিল্লিতে গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারির চক্র ফাঁস, উদ্ধার ৭৪টি সিলিন্ডার, গ্রেপ্তার ৩

অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ডিস্ট্রিবিউটর গ্যাস সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই অভিযান আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।

রাজধানী দিল্লির মহিপালপুর এলাকায় অবৈধ গ্যাস মজুত ও কালোবাজারির বড়সড় চক্র ফাঁস করল পুলিশ। অভিযানে ৭৪টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে এবং তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারগুলির মধ্যে ৭০টি গৃহস্থালির এবং ৪টি বাণিজ্যিক ব্যবহারের গ্যাস ভর্তি ছিল। পাশাপাশি একটি ছোট পণ্যবাহী গাড়ি, ওজন মাপার যন্ত্র এবং গ্যাস স্থানান্তরের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলি ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটি চালানো হচ্ছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়।

Advertisement

নির্দিষ্ট সূত্র থেকে খবর পেয়ে পুলিশ একটি দল গঠন করে মহিপালপুরের একটি বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকেই তিন অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের নাম কৃষ্ণ, দীনেশ সাহু এবং মিথিলেশ। তারা মূলত বিহারের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে বসবাস করছিল। গত প্রায় তিন বছর ধরে তারা এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ সিলিন্ডার ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার হয়। কিন্তু এই গ্যাস মজুত বা বিক্রির কোনও বৈধ অনুমতি দেখাতে পারেনি ধৃতরা। জেরায় তারা স্বীকার করেছে, বেশি লাভের আশায় তারা কোনও বিল বা অনুমতি ছাড়াই স্থানীয়দের কাছে গ্যাস বিক্রি করত।

Advertisement

এছাড়াও জানা গিয়েছে, ভরা সিলিন্ডার থেকে খালি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে তারা সরবরাহ বাড়াত। এভাবে বেশি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করত। এই কাজের জন্য তারা ধাতব পাইপ ব্যবহার করত। গোপনে ভাড়া নেওয়া জায়গায় এই পুরো কাজ চলত। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের ঘাটতির অভিযোগের মধ্যেই এই ধরনের কালোবাজারির ঘটনা বাড়ছিল। সেই কারণেই রাজধানী জুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর আগে মুন্ডকা ও শাকরপুর এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ডিস্ট্রিবিউটর গ্যাস সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই অভিযান আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement