আর মাত্র একমাস পরেই শুরু হতে চলেছে রাজ্যের বিধানসভা ভোট। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণের আগে জোরকদমে প্রচারে নামতে চলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ দুই প্রান্তেই আলাদা কৌশলে প্রচার চালাবেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী সপ্তাহ থেকেই উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করতে চলেছেন। আগামী ২৪ মার্চ আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁর জনসভার কর্মসূচি রয়েছে। একই দিনে মাটিগাড়া ও ময়নাগুড়িতেও সভা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে কর্মীসভা সেরে তিনি উত্তরবঙ্গে রওনা দেবেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটে উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই ভোটগ্রহণ হবে, তাই সময় হাতে রেখেই প্রচারে জোর দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী ২৫ মার্চ থেকে প্রচার শুরু করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা এখনও বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও গত লোকসভা নির্বাচনের পর কিছুটা জমি পুনরুদ্ধার করেছে তৃণমূল, তবুও বিজেপিকে টক্কর দিতে নিজেই ময়দানে নামছেন দলনেত্রী। ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার একদিনে তিন বিধানসভা কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করার কথা তৃণমূল সুপ্রিমোর।
Advertisement
অন্যদিকে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করবেন ২৪ মার্চ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় তাঁর প্রথম জনসভা হওয়ার কথা। পরের দিন, ২৫ মার্চ নন্দীগ্রাম-সহ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের একাধিক এলাকায় সভা ও কর্মীসভা করবেন তিনি। দাসপুর, কেশিয়াড়ি ও নারায়ণগড়ে জনসভা করার পাশাপাশি নন্দীগ্রামে কর্মীসভায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি এ বারেও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন পবিত্র কর। একুশের বিধানসভায় এই কেন্দ্রই ছিল ভোটের উপকেন্দ্র। ২০২৬-এর নির্বাচনে এখানে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের সঙ্গে লড়াই হওয়ার কথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। ফলে এই কেন্দ্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এছাড়াও জানা গিয়েছে, ২৬, ২৮ ও ৩১ মার্চ উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে সভা ও রোড শো করবেন অভিষেক। গোটা মাস জুড়েই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জনসংযোগ কর্মসূচি চালাবেন তিনি। ভোটের আগে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবং বিরোধীদের চাপে রাখতে দুই প্রান্তে সমান্তরাল প্রচারেই ভরসা রাখছে তৃণমূল শিবির।