২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে ইস্তাহার প্রকাশ করলেন। পাশে ছিলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই ইস্তাহারের কেন্দ্রবিন্দুতে রইল ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’। মহিলা, যুব, কৃষক, সাধারণ মানুষ, প্রায় সব স্তরের মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মমতার দাবি, গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই নতুন প্রতিশ্রুতির প্যাকেজ। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুরও চড়িয়েছেন দলনেত্রী।
ইস্তেহার প্রকাশের আগেই তৃণমূল সুপ্রিমো কেন্দ্রের মোদী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, বাংলাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। নির্বাচন ঘোষণার পর যেভাবে একের পর এক প্রশাসনিক পদে বদলি করা হয়েছে তাতেই স্পষ্ট যে, এর মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে। আসলে ওরা বাংলার অস্মিতা ও সংস্কৃতি সব কিছুই নষ্ট করতে চাইছে। সুর আরও চড়িয়ে তিনি বলেন, এখানে কার্যত অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কোনও বিভাজন নেই। কমিশন তোতা পাখির মতো আচরণ করছে। আসলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট করতে চাইছে বিজেপি। এটা অত্যন্ত লজ্জার। দলনেত্রীর অভিযোগ, বিজেপি বাংলার মাটিতে ‘স্বৈরাচারী যুদ্ধ’ শুরু করেছে। যেভাবে হোক না কেন বাংলা দখল করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকী, বিজেপির এক ও দুই নম্বর নেতা ফোন করে ভয় দেখাচ্ছেন। তবে আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবেই।
Advertisement
দলীয় ইস্তাহার প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের রূপরেখা হিসেবেই এই প্রতিজ্ঞাগুলি তৈরি করা হয়েছে। ইস্তাহারে নারীকল্যাণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে সাধারণ মহিলাদের মাসিক ভাতা এখন বেড়ে মাসে ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি এবং জনজাতির মহিলাদের জন্য ১৭০০ টাকা করা হয়েছে। মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতেই এই প্রকল্প বলে দাবি।
Advertisement
তরুণ প্রজন্মের জন্য ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা চালু করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ঘোষণা। কৃষক ও ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ কৃষি বাজেট তৈরির কথা বলা হয়েছে। আবাসন ও পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় মাপের প্রতিশ্রুতি। তৃণমূল নেত্রী জানান, প্রতিটি পরিবারের মাথার উপর পাকা ছাদ এবং ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তৃণমূলের ইস্তাহারে এবার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সহজ করতে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করেছেন মমতা। এই প্রকল্পে ব্লক ও শহর স্তরে স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
Advertisement



