পার্থ প্রতীম চট্টোপাধ্যায়
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল এবং গ্যাসের দামের ধাক্কার জেরে গত সপ্তাহে অনেকটা পতন হয়েছে ভারতের শেয়ার বাজারে, অবশ্য কেবল ভারতের নয় সমগ্র বিশ্বের শেয়ার বাজারের হাল একই রকম। সেনসেক্স এবং নিফটি উভয়েই সাপ্তাহিক বন্ধের ভিত্তিতে প্রায় ৫%- এর বেশি নিচে বন্ধ হয়েছে। গত শুক্রবারের বন্ধের ভিত্তিতে সেনসেক্সের অবস্থান ৭৪৭৬৩ এবং নিফটির অবস্থান ২৩১৫১। পতন অনেকটাই হয়েছে, ব্যাঙ্ক নিফটি, মিডক্যাপ এবং স্মল ক্যাপের সূচকেও। অবশ্য যুদ্ধের রেস সমগ্র বিশ্বের শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করেছে। যুদ্ধের জেরে নাজেহাল খোদ আমেরিকারও গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলি এবং সে দেশের অর্থনীতিও। তাছাড়াও জাপান এবং হংকংয়ের সূচকেরও বেশ কিছুটা পতন হয়েছে। সূচকের পতনের খবরে এসেছে ইউরোপ থেকেও লাগাম ছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধি এই পতনকে আরও ইন্ধন জুগিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা এবং সেই সঙ্গে ফরেন ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরদের (এফআইআই) লাগাতার বিক্রি সূচকের পতনকে আরও তীব্রতর করে তুলেছে।
Advertisement
বিনিয়োগকারী চোখ এখন ডলারের দিকে ডলারের দাম স্থিতিশীল হলে কিংবা কিছুটা পতন হলে আসা জোগাবে শেয়ারবাজারে, সেই সঙ্গে ফিরে আসবে এফআইআইও। গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে অটো সেক্টরে। যুদ্ধের বাজারে রেট কাটের আশা না থাকার জন্য এবং কিছুটা উপরে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির সংখ্যা আসার জন্য পতন হয়েছে ব্যাঙ্কিং সেক্টরে ও। গত সপ্তাহে বন্ধের ভিত্তিতে অধিকাংশ সূচকে বন্ধ হয়েছে বেশ কিছুটা নিচে। ইন্ডিয়াভিক্স কার্যত ছাড়িয়ে গেছে প্রায় সব রেকর্ডকে, ফলে বাজার হয়েছে যথেষ্ট ভোলাটাইল যা খুচরো বিনিয়োগকারীদের অস্বস্তিতে রেখেছে। তবে অন্যান্য সমস্ত প্যারামিটারের দিকে তাকালে দেখা যায় বাজার এখানে বেশ কিছুটা সস্তা হয়েছে। যা ভবিষ্যতে আকর্ষণ করবে বড় বিনিয়োগকারীদের।
Advertisement
প্রশ্ন একটাই, বাজার ঠিক হবে কবে? যদিও সঠিকভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাস্তবে অসম্ভব। তবে যেহেতু ভারত সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেয়নি এবং ইরান ও ইজরায়েল এই দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার জন্য যুদ্ধের কিছুটা পরোক্ষ প্রভাব ছাড়া প্রত্যক্ষ প্রভাব সেই অর্থে নেই বললেই চলে। তবে বাজার নিচে আসার অন্যতম প্রধান কারণ তেল এবং গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি। এর ফলে ফিসকাল ডেফিসিট-এর ফিগার ঊর্ধ্বমুখী। অনেক বিদেশি ব্রোকারেজ সংস্থা ইতিমধ্যে এগুলিকে বাঁকা চোখে দেখতে শুরু করেছে। যদিও বিখ্যাত রেটিং সংস্থা FITCH ভারতের জিডিপির উপর আশাবাদী। তাদের মতে জিডিপি বৃদ্ধির হারের পরিমাণ হবে প্রায় ৭.৫%।
বিনিয়োগকারী হিসেবে অনেকেই উদ্বিগ্ন বাজারের এই পরিস্থিতিতে, যেখানে কেবল গত সপ্তাতেই সমস্ত বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কুড়ি লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কখনোই সমস্ত পোর্টফোলিও বিক্রি করে দেওয়ার কথা বা প্রয়োজন না থাকলে এসআইপি (সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান) কমিয়ে আনার কথা মোটেই ভাববেন না। অযথা ফান্ড চেঞ্জ করার দিকে ঝুঁকবেন না এতে ক্ষতি আপনারই। ফান্ড ভালো থাকলে পুরনো ফান্ডে অবশ্যই top-up করবেন। এতে ভবিষ্যতে আপনার রিস্ক ভার্সেস রিটার্ন রেশিও থাকবে অনেক বেশি। এককালীন বিনিয়োগ করলে এসটিপি (সিস্টেমেটিক ট্রান্সফার প্ল্যান)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করবেন।
ফান্ডের মধ্যে আগের পর্বের সাজেশন অনুযায়ী লার্জ ক্যাপ ফান্ড এবং মাল্টি অ্যাসেট ফান্ডে পজিশন বানাতে পারেন। একটু রক্ষণশীল বিনিয়োগকারী এগ্রেসিভ হাইব্রিড ইকুইটি ফান্ড কিংবা ব্যালান্সড অ্যাডভান্টেজ ফান্ডকে বেছে নিতে পারেন তার বিনিয়োগের ঘোড়া হিসেবে। সেক্টরিয়াল ফান্ড কিংবা মিট ক্যাপ ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী অবশ্যই এসটিপি (সিস্টেমেটিক ট্রান্সফার প্ল্যান)-কে ভরসা করবেন।
এই পরিস্থিতিতে সমগ্র বাজারকে পর্যালোচনা করে এটা বলা যায় বিনিয়োগের দিক থেকে অত্যন্ত মোক্ষম সময় এখন। এখানে বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করলে একদিকে যেমন কম NAV-এ বেশি ইউনিট পাবেন তেমনি এর ফলে বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ হবে সুরক্ষিত। ভয় আর লোভ এই দুই বিষয় বরাবরই বাজারের অঙ্গ। এই পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে শৃঙ্খলা আর নিয়মানুবর্তিতাকে আশ্রয় করে বিনিয়োগকারী গড়ে তুলতে পারেন তার বিনিয়োগ ভবিষ্যতের সুদৃঢ় বুনিয়াদ।
Advertisement



