• facebook
  • twitter
Friday, 13 March, 2026

উচ্চপদস্থ ভারতীয় আধিকারিকদের ‘হানিট্র্যাপে’ ফাঁসানোর টার্গেট করছে আইএসআই

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তরের সতর্কতা

প্রতীকী চিত্র

ভারতের সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিতে নতুন কৌশল নিয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে উচ্চপদস্থ ভারতীয় আধিকারিকদের ‘হানিট্র্যাপে’ ফাঁসানোর মতো একটি বড়সড় গুপ্তচরবৃত্তির জাল বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে সতর্ক করেছে গোয়েন্দা মহল।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে একাধিকবার এই ধরনের ফাঁদ পেতে সংবেদনশীল তথ্য বের করার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। তবে এবার কৌশল আরও আগ্রাসী। বিশেষ করে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহই তাদের প্রধান লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগের মতো নিম্নপদস্থ সেনাকর্মীদের নয়, এবার সরাসরি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। কারণ, তাঁদের হাতেই থাকে অত্যন্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং তথ্য।

Advertisement

সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় দেখা গিয়েছে, ভারতের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা ক্রয়, ড্রোন প্রযুক্তি এবং শীর্ষ সামরিক আধিকারিকদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা দপ্তরের যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই গুপ্তচরবৃত্তির নেটওয়ার্ক শুধু পাকিস্তান থেকে পরিচালনা করতে চায় না আইএসআই। বরং ভারতের ভিতরেই কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে দিল্লি, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরপ্রদেশে কয়েকজন নারীকে এই ‘হানিট্র্যাপে’র কাজে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

এছাড়া দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বহু ‘এজেন্ট’ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে তাদের মোতায়েন করার লক্ষ্য রয়েছে। গোয়েন্দা দপ্তরের মতে, এই পরিকল্পনা নতুন নয়। ২০১৮ সাল থেকেই ধীরে ধীরে এই জাল বিস্তারের চেষ্টা শুরু হয়েছিল। সেই সময় মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং গুজরাতেও কিছু নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল।

যদিও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক অভিযানে সেই চক্রের অনেকটাই ভেঙে দেওয়া হয়। সেজন্য বেশ কিছুদিন এই ধরনের কার্যকলাপ কমে যায়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে আবার এই ধরনের তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে বলে সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা আধিকারিকরা। সম্ভাব্য ‘এজেন্ট’দের মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

গোয়েন্দা মহলের মতে, এই অভিযানের জন্য আইএসআই বড়সড় অর্থ বরাদ্দ করেছে। কারণ তাদের লক্ষ্য, এমন ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলা, যাঁদের কাছ থেকে অত্যন্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সম্ভাব্য সব দিকে নজরে রেখে এই বড়সড় গুপ্তচরবৃত্তির ছক ভেস্তে দিতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement