• facebook
  • twitter
Thursday, 30 April, 2026

গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী

প্রয়োজনে মজুতদারদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করবে সরকার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

জ্বালানি গ্যাসের সঙ্কট এবং কালোবাজারির অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালোবাজারি রুখতে মজুতদারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকায় জ্বালানি গ্যাসের জোগান নিয়ে সমস্যার সমাধানে তড়িঘড়ি বৈঠকে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেলেই গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংক্রান্ত তথ্য জানতে তেল সংস্থা ও গ্যাস পরিবেশকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তিনি। জ্বালানি গ্যাস নিয়ে এই উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তিনি কেন্দ্রকেই নিশানা করেছেন। মমতা দাবি করেছেন, এই সঙ্কটের বিষয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বিবৃতি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে আগামী সোমবার রাজ্যজুড়ে রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাকও দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, বুধবার তিনটি তেল সংস্থা এবং গ্যাস পরিবেশকদের সঙ্গে আলিপুরের সৌজন্য অডিটোরিয়ামে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের প্রধান পীযূষ পাণ্ডে-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক। খাদ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকেরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মূলত রাজ্যে গ্যাসের প্রকৃত সঞ্চয় কতটা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য জোগান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক ডাকা হয়। বিশেষ করে ঘরে ঘরে রান্নার গ্যাস সরবরাহে যে আচমকা সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতেই উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

এদিন ঘন্টাখানেক বৈঠকের পর মমতা জানালেন, ‘সংকট কাটাতে আমরা বেশ কয়েকটা পদক্ষেপ নিলাম। ওঁদের (ডিলারদের) সঙ্গে আলোচনা করে যা জানলাম, জ্বালানি তেল নিয়ে এখনও ততটা সমস্যা তৈরি হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে এলপিজি গ্যাসে। আমরা বললাম, রাজ্যে যা গ্যাস মজুত আছে, তা আর বাইরে পাঠাবেন না। সমস্যা মিটে গেলে আবার সেটা করতে পারেন। একটা এসওপি বা নির্দেশাবলী তৈরি হবে। ওঁদের সঙ্গে কথা বলেই তা হবে। ওঁরা আশ্বাস দিয়েছেন যে স্বাস্থ্যক্ষেত্র, মিড ডে মিল, আইসিডিএস সেন্টারগুলিতে কোনও সংকট হবে না। বলা হয়েছে, সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে। আমাদের কথা ওঁরা মেনে নিয়েছেন। বৈঠক ভালো হয়েছে। অযথা কেউ আতঙ্কিত হবেন না।’ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আজ বৃহস্পতিবার ফের জেলার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

সম্প্রতি জ্বালানি গ্যাসের সঙ্কট এবং কালোবাজারির অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘বাজারে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হলে তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে মজুতদারদের কাছ থেকে গ্যাস বাজেয়াপ্ত করে সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করছে। এর ফলে বহু এলাকায় গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও অবৈধভাবে সিলিন্ডার মজুত করার খবর পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। প্রয়োজনে সেই মজুত করা গ্যাস বাজেয়াপ্ত করে মানুষের মধ্যে সরবরাহ করার কথাও বলা হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই পথের উপর প্রভাব পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাতেও তার কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত অটোসহ গ্যাসচালিত পরিবহণ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় ভাড়া বাড়ানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাসের ঘাটতির কারণে কিছু খাবারের দোকান ও হোটেলও সমস্যায় পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বহু স্কুলে মধ্যাহ্নভোজনের রান্না সমস্যায় পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও শিশুদের নিয়মিত খাবারের বদলে কেবল সেদ্ধ ডিম দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, ছাত্রাবাস এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিষেবাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, এ বিষয়ে সংসদে স্পষ্ট বক্তব্য রাখা উচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।

Advertisement