ভারতীয় মহিলা ফুটবল ব্রিগেডে করুণ অবস্থা দেখা গেল এশিয়ান কাপে। শুধু হারের মুখে পড়তে হয়েছে ভারতীয় দলকে। ভারতের মেয়েরা পরপর তিনটি ম্যাচেই যেভাবে হেরে গিয়েছে, তা অবশ্যই লজ্জার। ভারত এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যদি এশিয়ান কাপে টিকে থাকতে হয়, তাহলে চাইনিজ তাইপেইয়ের বিরুদ্ধে জেতা ছাড়া কোনও পথ খোলা ছিল না। মঙ্গলবার এশিয়ান কাপের খেলায় ভারত ১-৩ গোলে গ্রুপ পর্বের খেলায় হেরে গেল চাইনিজ তাইপেইয়ের কাছে। আর এই হেরে যাওয়ার ফলে ভারত ছিটকে গেল প্রতিযোগিতা থেকে। ভারতের সঙ্গীতা বাসফোররা অভিযান শেষ করলেন। তার সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, ফেডারেশনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামের কাছে হারতে হয়েছিল ভারতকে। তারপরে দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের কাছে ১১ গোল হজম করেছিল ভারত। ফলে পরের পর্বে যেতে হলে অনেক জটিল অঙ্কের সামনে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় দল। পরের পর্বে খেলতে পারলে বিশ্বকাপে যাওয়ার পথ মসৃণ হত। শেষ আটের থেকে ছ’টি দল বিশ্বকাপে খেলবে। সেখানে চাইনিজ তাইপেইয়ের বিরুদ্ধে ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হত ভারতকে।
Advertisement
অন্যদিকে, ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে জিততে হবে জাপানকে। এমন একটা পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে গ্রুপ পর্যায়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে সরাসরি দ্বিতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারত ভারত।
Advertisement
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চাইনিজ তাইপেইয়ের কাছে দাঁড়াতেই পারল না ভারত। হারতে হল ১-৩ গোলের ব্যবধানে। খেলার ১২ মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলে চাইনিজ তাইপে গোল করে এগিয়ে যায়। তবে ৪০ মিনিটের মাথায় দুর্ধর্ষ ফ্রিকিক থেকে সমতা ফেরান মনীষা। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে আবার এগিয়ে যায় চাইনিজ তাইপে। খেলার ৭৭ মিনিটে আরও একটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে ভারতকে পিছনে ফেলে দেয়। সেই সময় ভারতের গোলকিপার পান্থোই চানু ও সুইটি দেবীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দু’জনেই গুরুতর আহত হন।
এই টুর্নামেন্টের জন্য কোস্টারিকার অ্যামেলিয়া ভালভার্দেকে কোচ করে নিয়ে আসা হয়। তার আগে মহিলা দলের দায়িত্ব সামলেছেন ক্রিস্পিন ছেত্রী। ২০১৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত কোস্টারিকার মহিলা দলকে কোচিং করিয়েছেন অ্যামেলিয়া। তাঁর কোচিংয়েই প্রথমবার মহিলাদের বিশ্বকাপে খেলতে নামে কোস্টারিকা। কিন্তু তাঁকে যখন দায়িত্ব দেওয়াই হল, তা দেরি হল কেন?টুর্নামেন্টের আগেই কেন কোচ বদল করা হল? কেন তাঁকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হল না? বিশ্বকাপের আগে জার্সিও ঠিকমতো পৌঁছয়নি। সব মিলিয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে শুধু সমালোচনা নয়, অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
Advertisement



