ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরী হিসেবে অবশেষে মনোনীত হয়েছেন মোজতবা খামেনি। সোমবার তেহরান থেকে জানানো হয়েছে, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ সভা বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস তাঁকেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এই পদে বসার পর মোজতবার সিদ্ধান্ত দেশব্যাপী চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তরাধিকার কে পাবেন তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছিল। মোজতবার নাম বহুবার উঠে এলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয় সোমবারে। রবিবারই ইজরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, খামেনির কুর্সিতে যাঁকেই বসানো হোক, তাঁকেই নিশানা করা হবে। এর পর সোমবারই ইরান সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করে।
Advertisement
এর আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে আমেরিকার মতামতও নেওয়া উচিত। তেহরান এই দাবি উপেক্ষা করে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, মোজতবাকে নির্বাচন করা ইরানের জাতীয় ঐক্য শক্তিশালী হবে এবং ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের স্বপ্ন’ বাস্তবায়িত হবে না।
Advertisement
এদিকে মোজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগে খুশি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে খুশি নন এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ করা হবে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাত মোকাবিলায় তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করবেন। ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইরানের নতুন নেতাকে অনুমোদন দেওয়ার আগে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
৫৬ বছর বয়সের মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের শাসক গোষ্ঠীর কাছে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তিনি ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। শিয়া ধর্মীয় পরম্পরায় বাবা-ছেলের ধারাবাহিকতা সবসময় স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, তবে শেষপর্যন্ত তাঁকেই ইরানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় এখনও পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত হয়েছেন ৭ জন আমেরিকান সেনাও। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে খনিজ তেলের দাম যেমন বাড়ছে, শান্তির কোনো নির্দিষ্ট ইঙ্গিতও মেলেনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নির্মূল হলে তেলের দাম কমবে। ততদিন বিশ্বকে এই ‘সামান্য মূল্য’ দিতে হবে।
Advertisement



