• facebook
  • twitter
Tuesday, 10 March, 2026

পরিবারতন্ত্র তত্ত্বে শাহকে বিল আনতে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

দিল্লির বিজেপি নেতারা যে হোটেলে যে ঘরে ওঠেন, সেখানে উঠেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এটা কাকতালীয় হতে পারেনা : অভিষেক

ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনামঞ্চ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদী কর্মসূচিতে এবারও জনসম্মুখে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত তিনদিন ধরে মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা লড়াইয়ে অভিষেক বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, বিচারাধীন ভোটারদের প্রত্যেকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলতেই থাকবে।
সোমবারও তিনি সেই কথাই পুনরায় মনে করিয়ে দিলেন। “আমাদের লড়াই চলবে যতদিন না আপনি, মানে নির্বাচন কমিশনার, এই ৬০ লক্ষ মানুষকে তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছেন,” বলেন অভিষেক। তবে একই সঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সতর্ক বার্তাও দেন, “আপনি রাস্তায় থাকতে চাইবেন, কিন্তু রাজ্যের মানুষের স্বার্থে লড়াইয়ের জন্য আপনার শরীর খারাপ করবেন না। তৃণমূলের ছাত্র-যুব আছে, তারা লড়াই বুঝে নেবে।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অভিষেক মঞ্চ থেকে ধরনা তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি করার পরিকল্পনা করেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “জ্ঞানেশ বাবু, আপনার ক্ষমতা থাকলে দেখান আপনি কী করতে পারেন। আমরা দেখব আপনার ক্ষমতা কতটুকু।” তিনি অভিযোগ করেন যে, কমিশনারের নীতি ও নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে। “আপনি বলেছিলেন লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি লিস্ট প্রকাশ করবেন না—শেষ পর্যন্ত তা করতে হয়েছে। হেয়ারিং ভেন্যু বাড়াবেন না বলেছিলেন, সেটা বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে। বি এল এ ২ দের ভোট দিতে দেবেন না বলেছিলেন, তাও করতে হয়েছে।
ঠিক যেমনটা বলা হয়, ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আগামীকাল এসআইআর মামলা সর্বোচ্চ আদালতে রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ আদালতের উপর পূর্ণ আস্থা রাখি। যাদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে যাদের মামলা চলমান, তার মধ্যে ৮০ শতাংশই ম্যাপ ক্যাসিং হয়েছে। এইভাবে পুলিশ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং ধমকানো হচ্ছে। আপনি বলছেন, যদি বিজেপির কমপ্লেনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নেন, আমি অন্য রাজ্য থেকে পুলিশ এনে ব্যবস্থা নেব। এটা কি গ্রহণযোগ্য নীতি?”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “দিল্লির বিজেপি নেতারা যে হোটেলে উঠেছেন, সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও উঠেছেন—এটি কাকতালীয় হতে পারে না। আপনারা ভোটের ন্যায়নিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম কি না, সেটা আমরা দেখব।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে যে তিনি কমিশনারের নীতি বাস্তবায়ন, ক্ষমতা প্রয়োগ এবং ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন অভিষেক। ‘ভাইপো’ সম্বোধনের পালটা জবাবে অভিষেক বলেন, “আপনাদের কোনওদিন ক্ষমতা হয়নি, একটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে যোগ্য উত্তর দিন। আপনি বলেছেন তৃণমূল পরিবারকেন্দ্রীক দল। কেন্দ্র সরকার আপনার, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আপনারা। ক্ষমতা থাকলে একটি বিল নিয়ে আসুন, যেখানে স্পষ্ট লেখা থাকবে, এক পরিবার থেকে একজনই রাজনীতি করতে পারবে।
আমি সেই বিলের জন্য ভোট দেব এবং রাজনীতি ছাড়ব। আপনার ক্ষমতা থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন।” নিজের ভোট জয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরে বলেন, “আমার অগ্নিপরীক্ষা আমি দিয়েছি। ২০১৪ সালে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রথম ভোটে ৭১ হাজারের মার্জিনে জেতা থেকে তৃতীয় দফায় ৭ লক্ষ ১১ হাজার ভোটে জয়—এটিই আমার ক্ষমতার প্রমাণ।” জয় শাহ প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করে বলেন, “ক্রিকেটের কে জানে, সি জানে না, সে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট! কী অগ্নিপরীক্ষা দিয়েছেন আপনি?”
অমিত শাহের রাজ্যে মন্তব্যের জবাবে অভিষেক জানান, “শাহ বলেছেন, মমতা ব্যানার্জি যদি সৎ হন, তাহলে তাঁদের দলের যে নেতারা জেলে ছিলেন, তাদের টিকিট দেবেন না। আপনার পদত্যাগপত্র জমা দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা দেখাব, আমরা যা বলেছেন তা বাস্তবায়ন করতে পারি।” এইভাবে ধর্মতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতাদের কার্যক্ষমতা, নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

Advertisement

Advertisement