২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া কার্যত অশান্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বুধবার সকালে দাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিগাছি গ্রামে শাসকদল ও বিরোধীদের সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে ওঠে। তবে এই ঘটনায় নজর কাড়ে এক ভিন্ন চিত্র। প্রতিরোধের মুখে পড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন শাসকদলের কর্মীরাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকালে তৃণমূল কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছিলেন এবং ভোট দিতে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আইএসএফ কর্মীরা একজোট হয়ে প্রতিবাদে নামেন। পরে সংঘবদ্ধভাবে তাঁরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৃণমূল সমর্থকদের সেখান থেকে সরে যেতে দেখা যায়। পরে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী।
Advertisement
যদিও তৃণমূলের দাবি, তারা কাউকে প্রভাবিত করেনি; বরং আইএসএফ মিথ্যা অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আইএসএফের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতেই এই প্রতিরোধ। এদিকে নদিয়ার চাপড়াতেও উত্তেজনা ছড়ায়। ৫৩ নম্বর বুথে বিজেপি এজেন্ট মোশারম মিরের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আক্রান্তের দাবি, বন্দুক দেখিয়ে তাঁকে রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী সৈকত সরকারের অভিযোগ, ‘কাল রাত থেকেই তৃণমূলের গুন্ডারা বন্দুক নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে।‘
Advertisement
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এক বিজেপি কর্মীর দাবি, তাঁর বাড়িতে ঢুকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং ভোট আটকাতে জোর করে পরিচয়পত্র জমা রাখতে বলা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি, বিগত কয়েক বছর ধরে এই কারণেই আমি ভোট দিতে পারছি না।‘
সার্বিকভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর উঠে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে।
Advertisement



