মৃড়নাথ চক্রবর্তী
বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় দু’টো মিসক্যারেজের পর আবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বিপাশা। এই প্রেগন্যান্সির দিনগুলি ভীষণ অসহ্য ঠেকছে তার কাছে। সবে সাত মাস চলছে। আরো দু’মাস এই কয়েদী জীবন কাটাতে হবে। তারপর কী হবে, তা নিয়ে ভাবতে চায় না বিপাশা। আপাতত এই দু’টো মাস কাটানো তার কাছে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরক্তি চিবিয়ে খাচ্ছে তাকে। গর্ভস্থ ভ্রূণ যেন তাকে একটা অদৃশ্য শেকলে বেঁধে রেখেছে, মায়াজালের মতো। সেই শেকল ভাঙার, সেই জাল ছেঁড়ার সাধ্য তার জীবিত অবস্থায় আর নেই। অথচ সেই শেকলকে ভালো রাখতে অজস্র কষ্ট, যন্ত্রণা, ত্যাগ। বাড়িতে আদর-যত্নে সে আরামে আছে, কিন্তু শান্তিতে নেই। কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে এই সপ্তাহ দু’য়েক হল ফিরে এসেছে। এখন একদমই বাড়িতে। কোনো কাজ নেই। বাড়িতে কাজের লোক, রান্নার লোক সবই আছে। এমনকি শুধু বিপাশার দেখাশোনা করার জন্যেও অজয় একটি মেয়েকে কাজে রেখেছে। আর্থিক কষ্ট তাদের কোনোকালেই কখনো ছিল না। বিপাশার বাবা ছিলেন সরকারি আধিকারিক, মা পড়াতেন স্কুলে। অজয় সরকারি ইঞ্জিনিয়ার। বাড়ি ছিল মালদায়। বছর সাতেক আগে কলকাতায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছে। বিপাশা নিজেও বর্ধমানের একটা কলেজে পড়ায়। কিন্তু এই অকাল ছুটি আর কয়েদী জীবনের আরামে বিপাশার দম আটকে আসছে। সারাদিন কেবল বিছানায় বা সোফায় শুয়ে মুখের ওপর মোবাইল রেখে স্যোশাল মিডিয়া স্ক্রোলিং, নয়তো নেটফ্লিক্স। শোয়াতেও নানান বিধি-নিষেধ। এপাশ ফেরা যাবে না, ওপাশ ফেরা যাবে না, ঝোঁকা যাবে না, উপুড় হয়ে শোয়ার তো প্রশ্নই নেই। বাইরেও কোথাও যাওয়ার নেই। খুব বেশি হলে সকালে বিকেলে একটু ব্যালকনিতে গিয়ে বসা। আর পারে না এভাবে। হাঁপিয়ে উঠছে বিপাশা। ভালোর মধ্যে কেবল একটাই, অনেকদিন হল মাসিক রক্তপাতের উপদ্রব নেই।
Advertisement
বিপাশার মা এসে রয়েছে তার কাছে, প্রেগন্যান্সির দ্বিতীয় মাস থেকেই। বর্ধমানের ভাড়া বাড়িতেও ছিলেন। বিপাশার সঙ্গেই কলেজে যেতেন। স্টাফরুমে বসে থাকতেন। বিপাশার ক্লাস নেওয়া হয়ে গেলে বিপাশাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। এতটা পরাধীন বিপাশা তার স্কুলজীবনেও ছিল না। যথেষ্ট স্বাধীনতা পেয়েছে সে আজীবন। মাঝে মাঝে তার মনে হয়, মা বুঝি পেশার চাপে ছোটবেলায় করতে না পারা শাসনগুলো এখন করছেন। আসলে গত দু’টো মিসক্যারেজের পর আর কোনোরকম রিস্ক কেউ নিতে চায়নি বিপাশাকে নিয়ে। অজয়ের মাও যথেষ্ট দেখাশোনা করে সকাল থেকে বিকাল। বিপাশার যা খেতে মন চায়, বাড়ির লোক তাই হাজির করে। এতে হয়েছে আর এক জ্বালা। বিপাশার এমনিতেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। উল্টে-পাল্টা খাওয়াতে তা মাথাচাড়া দিচ্ছে। হেঁচকি ওঠে, বমি হয়। ডাক্তার বাড়ির সাধারণ খাওয়া দাওয়া করার কথা বলেছেন। এদিকে আজকাল বিপাশার মেজাজ সবসময়ই থাকে সপ্তমে। পছন্দ মতো খাবার না হলে চিৎকার করে। অগত্যা ওর পছন্দের খাবার বাড়িতে বানানোর ধুম লেগেছে। পরিচিত খাবারগুলো না-হয় হয়ে যায়, কিন্তু সমস্যা হয় চাইনিজ আর মেক্সিকান ডিশ খেতে চাইলে। তাও একরকম শিশুকে চাঁদের বদলে রসগোল্লা দেবার মতো করেই চলছে সবকিছু।
Advertisement
অজয়ের বাবা বিপাশাকে একটা ‘কথামৃত’ দিয়েছেন। বলেছেন রোজ পড়তে। বিপাশার ছোটবেলাতেই কথামৃত পড়া। কতবার আর পড়বে! এগুলো ন্যাকামো মনে হয় তার। সে কোনোরকমভাবে সামান্য লিখতে পড়তে পারা মেয়ে নয় যে, গর্ভের সন্তানের ভালোর জন্য ‘কথামৃত’ পড়তে হবে রোজ। বিপাশা কলেজের অধ্যাপিকা। তার সন্তান শিক্ষা-সচেতনতা জিন থেকেই পাবে। কিন্তু তাও কথার অমান্য করে না। রোজ না হলেও মাঝেমধ্যেই কম বেশি সে ‘কথামৃত’ পড়ে। কখনো ভাবে, এরচেয়ে নিজের পড়াশোনা এগিয়ে রাখলেও তো চলে। তবে সেখানেও সমস্যা। পড়াশোনা করতে করতে কখনো লাইব্রেরি ছুটতে হবে, কখনো কারও সঙ্গে দেখা করতে হবে ইন্টারভিউ নিতে। সেটা এখন সম্ভব নয়। পড়াশোনা করতে করতে এই প্রেগন্যান্সির কারণে তা থমকে গেলে আবার বিচ্ছিরিরকমের মুড অফ হবে। তাই সিরিয়াস কোনো পড়াশোনাতে হাত দেয়নি বিপাশা। টুকটাক পত্রিকা, উপন্যাস পড়ে ইচ্ছে হলে। এই প্রেগন্যান্সির জন্য টোকিও আর চেন্নাইতে দু’টো গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স মিস হয়ে গেল তার। খুব কষ্ট করে তৈরি করেছিল পেপারগুলো। এসব যত ভাবে তত বিরক্ত হয়।
বিপাশা আজকাল রোজ স্নানের পর আধ-ভেজা চুলে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায়। দরজা লাগিয়ে রাখে। নিজের সুতোহীন শরীরটা খুঁটিয়ে দেখে যতটা পারে। ঝুঁকতে কষ্ট হয়। চোখে জল আসে বিপাশার। এটা তার শরীর! চিনতেই পারে না। অদ্ভুত একটা অবয়ব। ডাবল চিন হয়ে গিয়েছে। স্তন দু’টি কেমন বিচ্ছিরি রকমের শেপ নিয়েছে। বহুদিনের অপরিষ্কৃত আগাছা জমে রয়েছে ঊরুসন্ধিতে বাহুসন্ধিতে। ইতিউতি ছত্রাক ধরা দেওয়ালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে স্ট্রেচ মার্ক। তার সুন্দর ঈষৎ বাদামী স্তনবৃন্ত গাঢ় কালচে-বাদামী রূপ নিয়েছে। মোবাইলের গ্যালারি খুলে হানিমুনে মালদিভসের বিচে বেগুনি রঙের বিকিনি পরা ছবিগুলো বের করে।
‘জানিস বিপাশা-ম্যামের বিকিনি পরা ছবি দেখলাম ইনস্টাগ্রামে!’
‘তাই নাকি! কোথায় দেখা তো!’
এই কথাগুলোর ভয়ে যে ছবিগুলো কোথাও কোনোদিন আপলোড করেনি বিপাশা, মোবাইলটা মুখের সামনে মেলে ধরে সেই ছবিগুলোর দিকে তাকায়। পরক্ষণেই আবার আয়নায় নিজেকে দেখে। এই দু’টো একই মানুষ! আর সহ্য করতে পারে না। মোবাইলটা খাটের ওপর ছুঁড়ে ফেলে তাড়াতাড়ি গাউন পরে নেয়। এটা এক-দু’দিনের নয়। প্রতিদিনের ঘটনা।
প্রায় প্রতি রাতেই ঘুম আসে না বিপাশার। ছটফট করে। অজয় অফিসের কাজ সেরে একগাদা ক্লান্তি নিয়ে সন্ধ্যা পার করে বাড়ি ফেরে। কোনোদিন টিভি দেখে, গল্পগুজব করে। কোনো কোনোদিন বাড়ি ফিরেও অফিসের কাজ নিয়ে বসতে হয়। আগে কোনো কোনোদিন ক্লাবে যেত আড্ডা দিতে, তাস খেলতে। এখন তাও বন্ধ। রাতে খাওয়া দাওয়া করে বিপাশার পাশে শুয়ে পড়ে। বিপাশার শরীর অস্থির হয়ে ওঠে মিলিত হবার জন্য। কিন্তু সবাই বলে গর্ভাবস্থায় মিলন নিষিদ্ধ। কথাটা গায়ে লাগাত না বিপাশা যদি না একই পরামর্শ তার ডাক্তারের থেকেও আসত। হাত-পা শক্ত হয়ে আসে। তার শরীরটা যেন একটা ভেজা কাপড়। অপেক্ষা করে থাকে কখন অজয় তা নিংড়ে জল ঝেড়ে মেলে দেবে শুকোনোর জন্য। কিন্তু অজয় ওপাশ ফিরে ঘুমোয়। কোনো কোনোদিন না পেরে অজয়কে খামচে ধরে বিপাশা। চুম্বন-টুম্বন হয়। খুব বেশি হলে ওরাল। কিন্তু মন ভরে না বিপাশার। মনে হয় ডাক্তারের নিষেধ ভেঙে চুরমার করে দিতে। সামগ্রিক মেডিক্যাল সায়েন্সকেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে মন চায়। সন্তান প্রসবের এই প্রাকৃতিক নিয়মের মুখে লাথি মারতে ইচ্ছে হয় তার। কিন্তু পা ওঠে না, পেটে বাঁধা একটা বিরাট পাথরের চাঁইয়ে আটকে যায়। বিপাশা বোঝে তার এই বিচ্ছিরি হয়ে যাওয়া শরীর অজয়কে এখন আর টানতে পারে না। পরে কী হবে তাও জানে না। শুধু এই দু’টো মাস কী করে কাটবে এই চিন্তাই বিপাশাকে অস্থির করে রাখে।
বিপাশা এখন তেত্রিশ। কলেজে পড়ার সময় বিপাশার পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম ধরা পড়ে। অনেক চিকিৎসা করাতে হয়েছে, এখনো চলছে। সন্তান নিতে দেরি করলে প্রেগন্যান্সিতে সমস্যা হবার আভাস ছিল। কিন্তু মাস্টার্স কমপ্লিট করে, নেট ক্লিয়ার করে, চাকরির পরীক্ষা তারপর ইন্টারভিউ প্রসেস— সব শেষ করে চাকরি পেতে পেতে বিপাশার সাতাশ পেরিয়ে গিয়েছিল। তাও কপালজোরে চাকরিটা কোর্টে ঝোলেনি।
পরীক্ষার দু’বছরের মধ্যেই সমস্ত কিছু শেষ করে জয়েনিং লেটার হাতে পেয়েছিল। আঠাশে বিয়ে। বিয়ের বছর দেড়েক পর সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওরা দু’জন। কিন্তু পরপর দু’টো মিসক্যারেজ। এই মিসক্যারেজের জন্য দায়ী বিপাশার গাফিলতি, নাকি সিন্ড্রোম, সেটা বলা কঠিন। কিন্তু যেটা বলা সহজ, তা হল পরপর দু’টো মিসক্যারেজ বিপাশাকে শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত করে তুলেছিল। মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়লেও আর কেউ কোনোদিন তা বোঝেনি। নিজেও আমল দেয়নি বিশেষ। আসলে মাতৃত্ব নিয়ে তেমন কোনও স্বপ্ন, ইচ্ছা বা ফ্যান্টাসি বিপাশার কোনোদিনই বিশেষ ছিল না। আবার সন্তান নেবে না এমন মানসিকতাও তার ছিল না। সত্যি বলতে মাতৃত্ব, সন্তান— এসব নিয়ে তেমন করে কিছু ভাবেইনি সে কোনোদিন। নিজের পড়াশোনা, চাকরি, সেমিনার, কনফারেন্স ইত্যাদি ব্যস্ততার মাঝে ভাবার সময়ও পায়নি। বিয়ের পর বছর দেড়েক কাটলে অজয় একদিন রাতে সন্তান নেবার প্রস্তাব দেয়। বিপাশা আপত্তি করেনি। কিন্তু তারপর থেকে সন্তান তার কাছে একটা বুনোহাঁসের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাকে ধরার তাগিদ বিপাশার নেই, তবু ধরার জন্য ছুটছে। সে ধরা দিয়েও দেয় না। সে কেবল ছুটে ছুটে ক্লান্ত, শ্রান্ত, অবসন্ন, বিধ্বস্ত।
ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। ঠান্ডা আর নেই। তবু বিপাশাকে গরম জলে স্নান করতে হয়। ওর ঠান্ডার ধাত। গর্ভাবস্থায় তাই ঠান্ডা জলে স্নানের ওপর নিষেধাজ্ঞা। কমোডে বসে হ্যান্ড-স্প্রে দিয়ে মাকড়সা তাড়াচ্ছে বিপাশা। অনেকক্ষণ হল বসেছে। উল্টোপাল্টা খাবার ফল। কষে গেছে। এদিকে বেশি চাপ দিতে পারে না। পেটে যন্ত্রণা হয়। এখন কোনো কাজ নেই, কোনো তাড়া নেই। অনেকক্ষণ ধরে তাই বসে থাকে কমোডে। বরং ঘরের সোফা বিছানার চেয়ে কমোডে বসতেই তার ভালো লাগে। অনেক কিছু ভাবনা মাথায় আসে। বিরক্তি আসে। দুঃখ আসে। কখনো ফুঁফিয়ে কাঁদে একা একা। বাইরে কাঁদলে হাজারটা প্রশ্ন। গর্ভজাত বিরক্তির জন্য কান্না জানলে আবার হাজাররকম কথা, হাজাররকম জ্ঞান। ভালোলাগে না বিপাশার। বসে বসে সে মাকড়সাদের দেখে। অনেক মাকড়সার জাল হয়ে গেছে টয়লেটের চারিদিকে। মিনুর মা পরিষ্কার করতে চেয়েছিল। বিপাশা করতে দেয়নি। ওর এই মাকড়সার জাল দেখতে ভালো লাগে। ওরা বাসা বোনে, মানুষ ছিঁড়ে দেয়। আবার বোনে। আবার ছিঁড়ে দেয়। এক অসম লড়াই। তাও লড়েই যাচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। আচ্ছা ওরা কি সন্তান নেবার আগে প্ল্যান করে? মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করা শুরু করে পেটে সন্তান আসার খবর পাওয়ামাত্র? ওদের মিসক্যারেজ হয় না? স্প্রেটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে বুকের মধ্যিখানে, পাঁজরের ঠিক নীচে হালকা করে জল ছুঁড়ে দেয় বিপাশা। জল গড়িয়ে চলে তার স্ফীত পেট বেয়ে নীচের দিকে।
বাথরুমের গিজারটা খারাপ হয়েছে মাসখানেক হল। গরম পড়ে যাওয়ায় আর কারো গরম জলের দরকার পড়ে না। তাই গিজারটাও আর সারানো হয়নি। বিপাশা বসে দেখে একটু তফাতে একটা নীলরঙা বালতিতে তার স্নানের জল গরম হচ্ছে ইলেকট্রিক ইমারশন হিটারে। বালতিটা অনেকদিন ভালো করে মাজা হয়নি। বালতির গায়ে সাদাটে শ্যাওলা। জল ফুটছে। প্লাগে লাগানো তারের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ এসে গরম করছে বালতির জল। একটু একটু করে ফুটছে। একটু একটু করে সেই জল তার নিজের রূপ-অস্তিত্ব-ভৌত অবস্থা হারাচ্ছে। একটু একটু করে সেই জল তৈরি হচ্ছে আরেকজনের স্বাচ্ছন্দ্যের জোগান দিতে নিজেকে বিসর্জন দেবার লক্ষ্যে। ইমারশন হিটার যেখানে জল স্পর্শ করে আছে, সেখানে অনেক বুদ্বুদ জমা হচ্ছে। বিপাশার মনে হচ্ছে ওগুলো একেকটা শুক্রাণু। নাঃ! এরা একেকটা বাচ্চা। সদ্যোজাত সন্তান। তারা এক এক করে জন্মাচ্ছে, জড় হচ্ছে, দল করছে বিপাশাকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে বলে, বিপাশার
স্ব-অস্তিত্বের সমস্ত অণু-পরমাণু ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেবে বলে। অদ্ভুত একটা ভয় চেপে ধরে বিপাশাকে। অনেক কষ্টে পেটে একটা পৃথিবী সমান ওজন নিয়ে কমোড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। ভয় কামড়ে ধরে তাকে। দাঁতে দাঁত চেপে শরীরে জোর আনতে চায়। শরীর সায় দেয় না। তবু বিপাশা হার মানতে রাজি নয়। সে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেবে না, সে ওই বুদ্বুদের খাদ্য হবে না। গায়ে সাদা শ্যাওলা মাখা নীল বালতিটার দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যায় বিপাশা। সম্পূর্ণ নগ্ন শরীরে যুদ্ধে নামে। সেই বুদ্বুদাকৃতির খুনী বাচ্চাগুলোকে ধ্বংস করে দিতে ইমারশন হিটার আর জলের স্পর্শবিন্দু লক্ষ্য করে আক্রমণ করে বিপাশা। বিদ্যুৎ ও জলের সঙ্গম তাকে টেনে ধরে পরক্ষণেই ছুঁড়ে ফেলে দেয়। পেটের মধ্যে পাহাড় নিয়ে কাত হয়ে ছিটকে পড়ে বিপাশা। বাথরুমের দেয়ালে মাথা ঠুকে যায়। অনেক মাস পর আবার তার শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হয়।
Advertisement



