রাজ্যজুড়ে চলছে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। আর ঠিক সে সময়ই তফশিলি ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখে গুঁটি সাজাতে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত হচ্ছে তৃণমূলের তফশিলি সমাবেশ। সেখানে তফশিলি জাতি ও উপজাতি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর আগেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ‘তফশিলি সংলাপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তুলেছিল তৃণমূল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের সেই পথেই হাঁটছে ঘাসফুল শিবির। সূত্রের খবর, প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিধায়ক, সংগঠক ও নেতৃবৃন্দ এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। উপস্থিত থাকছেন নির্বাচনী কৌশলবিদ সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনও।
Advertisement
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি। সাম্প্রতিক তালিকা প্রকাশের পর একাধিক বিধানসভায় প্রায় ৯০ শতাংশ মতুয়ার নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করেছেন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। এই ইস্যু ঘিরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে।
Advertisement
রাজ্য বিধানসভার ১০০টিরও বেশি আসনে তফশিলি জাতি ও উপজাতি ভোটের প্রভাব রয়েছে। তাই ভোটের অঙ্কের বিচারে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে তফশিলি জনসংযোগের যে রূপরেখা তৈরি হবে, তার ভিত্তিতে আগামী দিনে জনপ্রতিনিধিরা দুয়ারেদুয়ারে পৌঁছে প্রচার চালাবেন। প্রচার গাড়িতে চেপে তফশিলি ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনার পরিকল্পনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তফশিলি জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারেও বিশেষ নজর দিচ্ছে তৃণমূল। গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৪৫-৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল দলটি। এবার সেই হার আরও বাড়াতেই তফশিলি ভোটে বাড়তি জোর দিচ্ছে তারা।
Advertisement



