২৮ অক্টোবর শুরু হয়েছিল বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। প্রায় চার মাস পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে। তালিকা বেরোনর পর উঠে এসেছে একাধিক বিস্ময়কর তথ্য। বহু ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও চমকপ্রদ বিষয়, সেই তালিকায় রয়েছেন জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারও।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হিসেবে উঠে এসেছে ক্রিকেটার রিচা ঘোষ। শিলিগুড়ির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। অথচ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের পাশে লেখা হয়েছে ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শিলিগুড়ির নাগরিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, তাঁর দিদি সোমশ্রী ঘোষের নামের পাশেও তা লেখা রয়েছে।
Advertisement
রিচা ঘোষ ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ির বাসিন্দা। খেলার প্রয়োজনে দেশ-বিদেশে যাতায়াত থাকলেও স্থায়ী ঠিকানা শিলিগুড়িই। এসআইআর চলাকালীন প্রয়োজনীয় নথি, এমনকি জন্ম শংসাপত্রও জমা দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। তা সত্ত্বেও কেন তাঁর নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখ্য, এ বিষয়ে তাঁকে কোনও শুনানির নোটিসও দেওয়া হয়নি। এনিয়ে রিচার বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, ‘এসআইআরের ফর্ম ফিলাপের সময় রিচার জন্মের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল নথি হিসেবে। কিন্তু কেন এরকম এল, বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।‘
Advertisement
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গৌতম দেব। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি নিজের মোবাইলে তালিকা দেখিয়ে বলেন, বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়ের নাম বিবেচনাধীন হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তা কমিশনের গাফিলতির ইঙ্গিত বহন করে। স্থানীয় বাম কাউন্সিলর মৌসুমী হাজরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রিচা শুধু রাজ্যের নয়, দেশের গর্ব। তাঁর নাম নিয়ে এই অনিশ্চয়তা মেনে নেওয়া যায় না।
শুধু রিচা নন, বিধায়ক, কাউন্সিলর এমনকি প্রশাসনিক আধিকারিকদের নামও ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় থাকায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরিবারের তরফে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে।
Advertisement



