ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, হামলার অন্তত দু’সপ্তাহ আগে থেকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে হিসাব কষছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে তারা চাইনি।
এদিকে ইরানের শাসনব্যবস্থায় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজাশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের এক আইন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত এই কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করবে।
Advertisement
সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানের প্রাক্তন রাজপরিবারের সদস্য রেজা পাহলভির নাম। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের সময় তাঁর পিতা রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রেজা এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে খামেনেই-পরবর্তী ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন।
Advertisement
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের সামনে এখন নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তাঁর প্রস্তাব, গণভোটের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নির্বাচন আয়োজন করা হোক।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড থেকেও সম্ভাব্য উত্তরসূরি আসতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক জারি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
Advertisement



