ভোটার তালিকা তৈরিতে আধার কার্ড ও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করা হবে, মঙ্গলবার স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, গত বছরের ২৭ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের যে বিজ্ঞপ্তিতে ১২টি নথির কথা বলা হয়েছিল, সেই নথিগুলি বিবেচনায় নেওয়া হবে। এই শুনানিতে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব দাবিই আদালতে মান্যতা পেয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
শীর্ষ আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, গত বছরের অক্টোবরের ২৭ তারিখে নির্বাচন কমিশন যে ১২টি নথির কথা জানিয়েছিল, সেগুলিই বিবেচনা করা হবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে, এবং পরবর্তীতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
Advertisement
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, সময়মতো কাজ শেষ করার জন্য অন্য রাজ্যের বিচারবিভাগীয় আধিকারিক প্রয়োজন হলে নিযুক্ত করা যেতে পারে। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলেছেন, তাঁদের নিজের সিদ্ধান্তে সার্কুলার ও নির্দেশ জারি করার ক্ষমতা আছে। সুপ্রিম কোর্ট তা মানেনি। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরাই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ। অন্য কেউ কোনও নির্দেশ জারি করতে পারে না।ভিনরাজ্যের অফিসাররা বাংলায় সমস্যা ছাড়াই কাজ করতে পারবেন।
Advertisement
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত একগুচ্ছ নির্দেশিকাও দিয়েছে। কোন কোন নথি গ্রহণ করা হবে, সেই নির্দেশিকায় আধার কার্ড নিয়ে আদালত জানিয়েছে বিহারে এসআইআরের সময় সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, সেই অনুযায়ী আধার কার্ড পরিচয়ের প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়াও, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯ জানুয়ারি আদালত মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসাবে গণ্য করেছিল। এদিনও সেই রায় দিয়েছেন বিচারকরা।
ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা থেকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের এই নির্দেশ নিয়ে আপত্তি তোলেন রাজ্যের তরফে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সওয়াল, ভিন রাজ্যের অফিসাররা বাংলা বুঝতে পারবেন না, কাজে সমস্যা হবে। তাতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের দাবি, একসময়ে পশ্চিমবাংলা-সহ গোটা অঞ্চলে বাঙালি সংস্কৃতি চলত। সেখানকার মানুষজন বাংলায় সাবলীল। তাই কাজে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
গত ২৭ অক্টোবর যে যে নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল সেগুলি হল, ১) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র ২) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি ৩) জন্ম শংসাপত্র ৪) পাসপোর্ট ৫) মাধ্যমিক বা তার অধিক কোনও শিক্ষাগত শংসাপত্র ৬) রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র ৭) ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট ৮) জাতিগত শংসাপত্র ৯) কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার ১০) স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার ১১) জমি অথবা বাড়ির দলিল এই নথিগুলির মধ্যে যেকোনও একটি নথি দিতে হবে ১২) আধার কার্ড এবং ১৩) মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। ১৯ জানুয়ারি আদালত মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসাবে গণ্য করে।
Advertisement



