• facebook
  • twitter
Wednesday, 25 February, 2026

কুইন্টাল প্রতি ২৭৫ টাকা বাড়ল পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য

পাটচাষিদের জন্য বড় স্বস্তি

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দেশের পাটচাষিদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করতে কাঁচা পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ২৭৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি, যার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ বিপণন মরসুমের জন্য টিডি–৩ মানের কাঁচা পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কুইন্টাল প্রতি ৫,৯২৫ টাকা। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে দেশের পাটচাষিরা উৎপাদন খরচের তুলনায় প্রায় ৬১.৮ শতাংশ বেশি লাভ পাবেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। সরকার আরও জানিয়েছে, ২০১৮–১৯ সালের বাজেটে ঘোষিত নীতির ভিত্তিতে উৎপাদন খরচের অন্তত দেড়গুণ মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বিপণন মরসুম ২০২৫–২৬ সালের তুলনায় এবার কুইন্টাল প্রতি ২৭৫ টাকা বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪–১৫ সালে কাঁচা পাটের সহায়ক মূল্য ছিল কুইন্টাল প্রতি ২,৪০০ টাকা। সেখান থেকে ২০২৬–২৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫,৯২৫ টাকা। অর্থাৎ গত এক দশকে সহায়ক মূল্য বেড়েছে কুইন্টাল প্রতি ৩,৫২৫ টাকা, যা প্রায় আড়াই গুণ। সরকারি সংস্থা জুট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া এই সহায়ক মূল্য কার্যকর করার দায়িত্বে থাকবে। বাজারের দাম যদি সহায়ক মূল্যের নিচে নেমে যায়, তাহলে এই সংস্থা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে পাট কিনবে। এতে সংস্থার কোনও ক্ষতি হলে তা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে বলেও জানানো হয়েছে।

Advertisement

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪–১৫ থেকে ২০২৫–২৬ সময়কালে পাটচাষিদের সহায়ক মূল্য বাবদ মোট ১,৩৪২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। তার আগের দশকে, অর্থাৎ ২০০৪–০৫ থেকে ২০১৩–১৪ সময়কালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৪১ কোটি টাকা। ফলে বর্তমান সরকারের আমলে পাটচাষিদের আর্থিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমানে ভারত বিশ্বে কাঁচা পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে। দেশের মোট উৎপাদনের ৯৯ শতাংশের বেশি আসে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম, ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ একাই দেশের মোট উৎপাদনের ৮০ শতাংশের বেশি পাট উৎপাদন করে। রাজ্যের অনুকূল জলবায়ু এবং উর্বর পলিমাটির কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।

Advertisement