• facebook
  • twitter
Saturday, 28 February, 2026

ফুটল কুসুম

ট্রেনে কোনো কথা বলল না সুবল। কুসুমও চুপ করে রইল। সে চাইছিল সুবল তাকে খুব আঘাত দিয়ে যা ইচ্ছে তাই বলুক। সে আর সুবলের মুখে মুখে কথা বলবে না। চুপ করে শুনবে।

কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায়

কুসুম যে ফিরতে পারবে, সেই আশা ছেড়ে দিয়েছিল। সম্ভবও ছিল না। যেখানে ছিল কিছু বোঝা যাচ্ছিল না আকাশটা কেমন। থমথমে মুখভার, না উঠেছে বৃষ্টিভেজা রামধনু। নাকি চোখ ঝলসানো রোদ!
এই সন্ধ্যায় তার সামনে আস্ত পুকুর। সেখানে জলে অলস আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটা জলঢোঁড়া সাপ। চারপাশের নারকোল গাছের ছায়াগুলি পুকুরের জলে কাঁপুনি তুলে সাঁতার কাটছে।
এভাবেই বুকের ভেতরটা মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠে কুসুমের। আজ সুবলের আসার কথা।

Advertisement

নন্দদাদু খুব ভালোবাসে সুবলকে। দিন দশেকের ছুটি চাইতেই বলেছিল, যত সময় লাগে লাগুক সে ক’টা দিন নিজেই চালিয়ে নেবে। তবে কাজটা করে আসা চাই। কথাটা মায়ের কাছ থেকে শুনেছে কুসুম।

Advertisement

কুসুমকে যখন পাওয়া যাচ্ছিল না সেটা সুবলকেই প্রথম জানিয়েছিল মা। সুবলের উপর মা মোটেই সন্তুষ্ট ছিল না। তাই প্রথম সন্দেহ করেছিল ওকেই। কয়েকদিন আগে কুসুমকে বলেছিল, ‘করে তো মুদি দোকানের সামান্য কাজ। তুই আর ভালোবাসার কাউকে পেলি না?’

কথাটা মা ভুল বলেনি। ওই তো মাঝেমধ্যে সিনেমা দেখা আর রেস্টুরেন্টে বসে বিরিয়ানি। এর বেশি আর বিশেষ কিছু এগোয়নি। একটুও সাহস নেই। সুবল যে কী করে সারাজীবনের ঝক্কি নেবে, তা মাথায় ঢুকত না। একদিন মুখফুটে বলেই ফেলেছিল কথাটা।

সুবল হেসে বলেছিল, ‘এত অস্থির হচ্ছ কেন? সবদিকটা একটু গুছিয়ে নিতে হবে তো।’
‘তুমি আর গোছাবে কবে? একটা চাকরি জোটাতে পারলে না। নন্দকাকুর দোকানে কাজ করে কি জীবনে উন্নতি হবে?’
‘এখন লাখ লাখ টাকা দিয়ে চাকরি কেনা আমার পক্ষে সম্ভব না। হলেও আমি অমন চাকরি করতাম না।’ একটু থেমে বলল, ‘তুমি লেখাপড়াটা ঠিক মতো করছ তো?’
‘তুমি শুধুমুদু কথা ঘোরাও। ভাল্লাগে না।’ সেদিন ঝটকা মেরে উঠে পড়েছিল কুসুম।
ক’দিন আর সুবলের সঙ্গে দেখা করেনি। একদিন হঠাৎ দেখা মল্লিকার সঙ্গে। বলল, ‘তোর তো দেখাই পাওয়া যায় না কুসুম। কারও সঙ্গে ইন্টু-বিন্টু চলছে নাকি।’
‘ধ্যাৎ। যত বাজে কথা। তোর খবর বল। কেমন আছিস?’
‘বিন্দাস। একদিন আয় না। আড্ডা হবে।’

সেদিন মল্লিকা একা ছিল না। আলাপ হয়েছিল স্বপন আর বিজয়ের সঙ্গে। মনে হয়েছিল হেব্বি ব্যাপার। দু’জনের কাছে দুটো মোটর সাইকেল। হাতে টাচফোন। মাথায় চুলের বাহার। কথা তো নয়, যেন ফুলঝুরি। মল্লিকা বিজয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে গায়ে ঢলে পড়ছিল।
স্বপন মল্লিকাকে বলল, ‘তোমার এই কুসুমকলি কি কথা বলতে জানে না?’
খিলখিল করে হেসে উঠল মল্লিকা। ‘দেখ না তুমি ওর কথা ফোটাতে পারো কিনা।’ বলেই বিজয়ের বাইকের পেছনে উঠল।
‘ওঠো।’ স্বপন ওর বাইকটা ছোট্ট এক পাক ঘুরিয়ে কুসুমের কাছে এসে বলল। কুসুম কোনোরকমে বসতেই স্বপন বাইকটা চালিয়েই একটা ঝাঁকুনি দিয়ে থামিয়ে দিল। ভয়ে স্বপনকে আঁকড়ে ধরল কুসুম।
‘এইরকম করে ধরে থাক। পড়বে না।’ বলেই স্বপন জোরে চালিয়ে দিল বাইক। পারফিউমের মৃদু গন্ধ আটকে রইল কুসুমের সঙ্গে।

এইভাবে দিন পনেরো চারজনে মিলে চলল নানান হল্লা-গুল্লা। ফুলটু মৌজ-মস্তি। কেমন একটা জ্যাঠামশাইয়ের মতো ভাবের সুবলের কথা মনেই পড়ল না কুসুমের।

মল্লিকা যেদিন দিল্লি যাবার কথা বলেছিল, চমকে উঠেছিল কুসুম। ‘ওরে বাবা। দিল্লি! কেন?’
‘বিজয় আর স্বপন ওখানেই বড় চাকরি করে। দেদার পয়সা ওড়ায়। ওদের পাশাপাশি দুটো ফ্ল্যাট। তুই আর আমি দু’জনে দুটোতে থাকব। স্বপনের তোকে খুব ভালো লেগেছে।’

শুনতে শুনতে কুসুমের মনের চোখে ভেসে উঠেছিল তার আর মল্লিকার দু’টি সাজানো সংসারের ছবি। সে আর মল্লিকা পাশাপাশি।
‘কীরে চুপ করে গেলি কেন?’
কুসুম বলল, ‘মা এসব শুনলে আর আস্ত রাখবে না।’
‘তবে থাক তুই এই এঁদো গ্রামে। আমার তো এখানে দম বন্ধ হয়ে আসে। একটা ভালো জীবন পেতে বাড়িতে বললে হবে? বিয়ের পর জানাব। তখন ওরা সবাই বোমকে যাবে।’

ক’টা দিন খুব দোলাচালের মধ্য দিয়ে কেটেছিল। মা সুবলের মতোই চায় কুসুম কলেজে যাক। কলেজে গিয়ে কী এমন হাতি ঘোড়া হবে। এদিকে মল্লিকা রোজই তাড়া দিচ্ছে।
‘যা করবি ঠিক কর। আমি অপেক্ষা করতে পারবো না।’ মল্লিকা বিরক্ত হয়ে বলল, ‘অনেক মেয়ে স্বপনের জন্য লাইন দিয়ে আছে।’

কুসুম আর ভাববার মতো অবসর পেল না। মল্লিকার কথা মতো একদিন হাজির হল হাওড়া স্টেশনে। ভয় করছিল। ভয় সুবলকে নিয়ে। দোকানের মালপত্রর জন্য বড়বাজারে যেতে হয় তাকে। যদি দেখা হয়। কী হবে!
মল্লিকা এসে বলল, ‘ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে নে।’ ট্রেনে উঠল কুসুম।

ট্রেন চলতে শুরু করার কয়েক ঘণ্টা পরেই কুসুমের কাছে অনেক কিছু কেমন বেতাল মনে হচ্ছিল। স্বপন যে কুসুমকে কাছে পেলেই জড়িয়ে জাপটে ধরত সে গিয়ে বসল মল্লিকার পাশে। মল্লিকা সব কথাতেই কখনও বিজয়ের কখনও স্বপনের গায়ে ঢলে ঢলে পড়ছিল। ট্রেন ছুটছিল অনেক জোরে। ওরা যে কী কথা বলছে কিছুই বুঝতে পারছিল না কুসুম। তবু সবাই হেসে ওঠায় সেও হাসছিল। একসময় বুঝতে পারল ও যেন একটা এলেবেলে। ওদের আড্ডার মধ্যে ওর কোনো গুরুত্ব নেই। যখন মল্লিকা ওকে খেতে দিল মনে হল যেন বাড়ির সামনের রাস্তায় শুয়ে থাকা কুকুরকে খেতে দেওয়া হচ্ছে। কেমন গা শিরশির করে উঠল তার। চোখে জল এসে যাচ্ছিল। স্বপনকে বলতে ইচ্ছে করছিল, কেন সে কথা বলছে না। কেন কাছে আসছে না।

ট্রেন থামল। মল্লিকাকে বলল, ‘তোরা আমার সঙ্গে ভালো করে কথা বলছিস না কেন? সব কেমন যেন। তুই মোটেও ভালো না। আমি তোদের সঙ্গে যাব না।’
মল্লিকা হেসে বলল, ‘তাহলে কোথায় যাবি? একদম চুপ করে থাক। ঝামেলি করবি না।’
স্বপন এসেছিল দপুরবেলা। তখন যে দুপুর বুঝতে পেরেছিল স্বপনের কথায়। কীভাবে কত সময় চলে গেছে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না সে। যে কাঠের তক্তায় শুয়েছিল মাথায় বালিশ নেই। তার ঘাড় ব্যথা করছিল। একটা আচ্ছন্ন ভাব। স্বপনকে দেখে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল কুসুমের। স্বপনের হাত ধরে উঠে বসতে চাইছিল। সুযোগ পেল না। তার আগেই স্বপন পোশাক থেকে বের করে আনল কুসুমকে। কোন বাধা দেওয়ার শক্তি নেই তার। কিছু বলতে চাইল কুসুম। মুখ চেপে ধরে রাখল স্বপন। আটকাবার উপায় ছিল না।

স্বপন বেরিয়ে যেতে ঘরে ঢুকল বিজয়। আরও বেশি হিংস্র। আর কিছু বোঝার ক্ষমতা ছিল না। সমস্ত শরীরে যেন জমাট হয়ে আটকে আছে ব্যথা। সে ইচ্ছে করেই চোখ খুলছিল না।
‘একদম সাড়াশব্দ নেই। মালটা কি খরচা হয়ে গেল?’ বিজয়ের গলা শুনতে পেল কুসুম।
স্বপন কুসুমের বুকে হাত রেখে চাপ দিল। বলল, ‘না রে, জ্যান্তই আছে।’
ঘৃণায় সবার মুখে থুতু ছুঁড়ে দিতে ইচ্ছে করছিল কুসুমের। সে একটা ঘোরের মধ্যেই বুঝতে পারল এখন কোনো সাড়া দিলে হয়ত আরও কোনো বিপদ হতে পারে।

বিজয় বলল, ‘মল্লিকা খাসা মালটা কিন্তু খেলিয়ে তুলেছে। পুনেতে নিয়ে তুলে দিতে পারলে ভালো মাল্লু পাওয়া যাবে।’
মল্লিকার আহ্লাদী কন্ঠস্বর শুনতে পেল কুসুম। ‘পাওনাটা যেন এবার মোটা হয়।’
‘হবে হবে।’ বিজয় বলল, ‘মাল যত তুলবে ততই তোমার মাল্লুও উপচে উঠবে।’
‘বহুত তকলিফ হুয়া সাহাব। ড্রাইভার কো জাদা বখশিস দেনেকা বাত ইয়াদ রাখনা।’
‘বকশিস নিয়ে ভেবো না। মালটা জায়গা মতো ডেলিভারি দিলে সব হবে।’ বিজয়ের কথা শুনে স্বপন আর মল্লিকা হেসে উঠল।

চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছে করছিল কুসুমের। ভাবছিল মল্লিকার কথা শুনে একটা বোকার মতো কাজ করল। সুবলের কথা খুব মনে পড়ছিল তার। প্লাবনের মতো কান্না উঠে আসছিল। কাঁদবার উপায় নেই। সমস্ত কান্না উল্টো বাগে তার শরীরের ভিতরেই বইতে লাগল। এই জীবনটা সে রাখবে না। এটা ভাবতেই তার চোখের সামনে এসে দাঁড়াল মা, বাবা, ভাই, বোনেরা। এই ঘোরের মধ্যেও সুবলকে যেন দেখতে পেল সে। নন্দদাদুর দোকানে বসে একমনে কাজ করে যাচ্ছে। মনে হল চোখ তুলে তাকে লেখাপড়াটা চালিয়ে যেতে বলল। একটা গভীর ঘুমের মধ্যে সে একটু একটু করে ডুবে যেতে থাকল।

বাবা বসে ছিল মাঝখানে। একটু উঠে যেতেই কুসুম সুবলকে বলল, ‘আমি নষ্ট হয়ে গেছি। ফিরিয়ে আনলে কেন?’ কথাটা বলেই আবার সরে বসল।
বাবা এসে বলল, ‘চা খাবি?’
ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল কুসুম। কামরায় অন্য যাত্রী যারা ছিল তারা কিছু বলতে চাইলে উঠে দাঁড়াল সুবল। চা নিয়ে এসেছিল যে লোকটি, তাকে ডাকল। তিনটে চা নিয়ে সুবল প্যাকেট খুলে বিস্কুট দিল কুসুম আর ওর বাবাকে। নিজেও নিল।

ভিতর থেকে কান্না উপচে উঠছে। একটু হলেই উল্টে যাওয়া কলসির জলের মতো চলকে চলকে পড়বে। নিজেকে কোনোরকমে থামাল কুসুম।
বাড়ি ফেরার পথে লোকাল ট্রেনের জানলার পাশে কুসুমকে বসাল সুবল। কুসুমের বাবা বলল, ‘আমি ওদিকটায় বসছি। তোমরা কথা বল।’

ট্রেনে কোনো কথা বলল না সুবল। কুসুমও চুপ করে রইল। সে চাইছিল সুবল তাকে খুব আঘাত দিয়ে যা ইচ্ছে তাই বলুক। সে আর সুবলের মুখে মুখে কথা বলবে না। চুপ করে শুনবে। তেমন কিছু হল না।
বাড়ির কাছে এসে সুবল বলল, ‘তুমি একটুও নষ্ট হওনি, তুমি আমার সেই কুসুমই আছ।’

কুসুম ভেবেছিল মা তাকে আস্ত রাখবে না। তেমন কিছুই হল না। মা তাকে খেয়ে নিতে বলল। ছোট ভাই বোনেরা প্রথমটা কাছে না এলেও শেষে এল। তার স্নান করতে ইচ্ছে করছিল। পুকুরে নামল। স্নান করতে গিয়ে সে অঝোরে কাঁদতে পারল। শুধু পুকুরই টের পেল কতটা জল দু’চোখে ধরে রেখেছিল কুসুম।

মায়ের কাছ থেকে শুনল সব। কুসুম রাতে বাড়ি না ফেরায় পরদিন সকালে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সুবলের বাড়িতে গিয়েছিল মা। সুবল তখনও ঘুম থেকে ওঠেনি। মা খুব চিৎকার করে কথা বলতে গিয়েছিল। সুবলই জোর করে থামিয়েছিল তাকে। অযথা লোক জানাজানি না করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। সে কলকাতায় গিয়ে যা করার করবে।

মা ভেবেছিল, এই সুযোগে নাটের গুরু সুবল পালাবার তাল করছে। সুবলের বাবা মা দু’জনেই তখন কুসুমের বাবাকেও সঙ্গে যেতে বলল। ওরা কলকাতায় যাওয়ার পর থেকে রোজই সুবলের বাবা-মা আসত। সমস্ত খবর দিত। সুবল যে কলেজে পড়ত সেই কলেজের এক প্রফেসরের ভাই লালবাজারে আছেন। তিনি যাবতীয় যোগাযোগ করে যা কিছু করার সব করেছেন। উনি না থাকলে আজ আর খুঁজে পাওয়া যেত না কুসুমকে। দু’টি বদমাস আর মল্লিকা এখন পুলিশের হেফাজতে। আজ যে ওরা বাড়ি ফিরবে একথা সুবলের বাবা কাল রাতেই জানিয়ে ছিল।
মায়ের কথা শুনতে শুনতে কোনো খাবার তার গলা দিয়ে নামছিল না।
‘সবাই জানে তুই মাসির বাড়ি গেছিলি।’ মা বলল।

মাসির বাড়িই বটে। যখন কুসুমের মনে হচ্ছিল সে একটু গায়ে জোর অনুভব করছে তখন চোখ মেলেছিল। দেখল, মল্লিকা বসে চুলের জট ছাড়াচ্ছে। মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল তার। গায়ে অসহ্য যন্ত্রণা। তবু সে আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ল মল্লিকার উপর। মাথার চুল টেনে ধরে চিৎকার শুরু করল। একটু সামলে নিয়ে মল্লিকাও টেনে ধরল কুসুমের চুল। ওদের দু’জনের মাঝখানে এসে দাঁড়াল এক মহিলা। কুসুমকে ধরে জোরে একটা চড় মারল।
অসহ্য খিদে। চড়টা সহ্য করতে পারেনি কুসুম। বসে পড়েছিল।
তখনই দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকল পুলিশ আরও কয়েকজন লোক। ওদের পিছন পিছন এল বাবা। কুসুমকে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরল। বলল, ‘আমাদের কথা একটু ভাবলি না মা।’

সুবল সেদিন ওই ঘরে ঢোকেনি। বাইরেই ছিল। তারপর থেকে সঙ্গে ছিল বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া অবধি।
একটু একটু করে ছায়া নেমে আসছে। মা সকালে বলেছিল সুবল আসতে পারে। কখন আসবে, কেন আসবে, এসব কথা জানতে চায়নি কুসুম। মা এখন আর নিশ্চয়ই সুবলকে অপছন্দ করে না।

কুসুম খুব অপছন্দ করে এখনও। কেন সুবল তাকে আরও ভালোবাসতে পারেনি। পরক্ষণেই মনে হল আরও ভালোবাসা মানে কী? যে ক’দিন সে মল্লিকার কথা শুনে পাগলের মতো ছোটাছুটি করল সেখানে কি ভালোবাসা ছিল। কেন সে ওভাবে ছুটছিল!

সুবলের কথা মনে পড়ল। তুমি নষ্ট হওনি, তুমি আমার সেই কুসুমই আছ। কথাটা মনে হতেই সে দেখল পুকুরের জলে আর নারকোল গাছের ছায়া দেখা যাচ্ছে না। থমথমে আবছা অন্ধকারে পুকুরের জল যেন শান্ত। হালকা নীল একটা পাথরের মতো দেখাচ্ছে।

নিজেকে ওই পুকুরের জলের মতো ধীর স্থির শান্ত করতে পারলে ভালো হত। কিছুতেই পারছে না। সুবল আসবে। কী বলবে সে। সত্যিই কি সে মনে করে তার কুসুম নষ্ট হয়ে যায়নি। এসে কী বলবে। যাই বলুক সুবল, আজ সে ওর সব কথাই মন দিয়ে শুনবে। মুখে মুখে কথা বলবে না।

ভাবতে ভাবতে কেন যে চোখে জল এসে যাচ্ছে বুঝতে পারছে না। পুকুরের চারপাশে কতরকমের গাছগাছালি। এসবের মধ্যে বেশিরভাগই আগাছা। তবু অল্প হলেও কিছু ফুলের গাছও আছে। সেসবের মধ্যে অনেক ফুল আবার এই সন্ধ্যায় ফুটে ওঠে।

সুবল আসবে। ওর কথা ভাবতে ভাবতে একটু একটু করে ফুটে উঠতে লাগল কুসুম।

Advertisement