ভারতে কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সম্প্রতি শেষ হওয়া ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই সামিটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা মিলিয়ে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাঁর কথায়, ‘এটি শুধু একটি প্রযুক্তি সম্মেলন নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
পাঁচদিন ব্যাপী এই বৃহৎ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল দিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপমে। সামিটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিও এই সম্মেলনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। উপস্থিত ছিলেন অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই এবং ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী শ্যাম অল্টম্যান-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নেতা।
Advertisement
মন্ত্রী জানিয়েছেন, পাঁচ দিনে প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি দর্শক এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বিনিয়োগকারী, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং উদীয়মান উদ্যোগপতিরা। সম্মেলনে নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, ‘এই বিপুল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ভারত এখন এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।’
Advertisement
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশীয় সংস্থাগুলির আগ্রহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রিলায়েন্স জিও আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে এআই পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে বৃহৎ ডেটা সেন্টার তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে আদানি গ্রুপ ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে পরিবেশবান্ধব শক্তিনির্ভর ডেটা সেন্টার তৈরির ঘোষণা করেছে।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এনভিডিয়া এবং ওপেনএআই ভারতের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ শুরু করতে চলেছে। পাশাপাশি লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো-র সঙ্গে যৌথভাবে বৃহৎ ক্ষমতার এআই কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এই সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হল ‘দিল্লি চুক্তিপত্র’। এই চুক্তিপত্রের ঘোষণায় ইতিমধ্যে ৭০টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘এই সামিট শুধু বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই নয়, জ্ঞান বিনিময় এবং নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রেও বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। তরুণ উদ্যোগপতিরা তাঁদের উদ্ভাবন তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন, যা ভারতের প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং এআই প্রযুক্তি উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রেও বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠতে পারে।
Advertisement



