আসন্ন নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা নিয়ে বামফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেল না। শরিক দলগুলির দাবি ও আপত্তির জেরে আসন রফা নিয়ে অচলাবস্থা থেকেই গেল। বামফ্রন্টের প্রধান শরিক ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)–র তরফে আশা করা হয়েছিল, বুধবারের বৈঠকেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে। কিন্তু অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এবং রেভলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি–র সঙ্গে মতপার্থক্য কাটানো সম্ভব হয়নি।
বুধবার বিকেলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্টের বৈঠক বসে। সেখানে শরিকদের আসনের দাবিকে ঘিরে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনও ঐক্যমত তৈরি হয়নি। সূত্রের খবর, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩টির কম আসনে লড়তে রাজি নয়। কিন্তু সিপিএমের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ১৮টির বেশি আসন ফরওয়ার্ড ব্লককে দেওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের মধ্যে জট কাটেনি।
Advertisement
একইভাবে, আরএসপি প্রথমে ২৩টি আসনের দাবি তুললেও পরে ১৯টিতে নেমেছে। তবুও সিপিএমের তরফে ১৫টির বেশি আসন ছাড়তে অনীহা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে এই শরিকের সঙ্গেও সমঝোতা ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে, সিপিআই ১৮টি আসনের দাবি জানিয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল এবং ভবিষ্যতে সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।
Advertisement
সমস্যা আরও জটিল হয়েছে, কারণ শরিকদের দাবি করা বেশ কয়েকটি আসনে সিপিএম নিজেও প্রার্থী দিতে আগ্রহী। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টও কিছু আসনের দাবি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একাধিক আসনে একাধিক দলের দাবি তৈরি হওয়ায় আসন রফা নিয়ে জট আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, ফরওয়ার্ড ব্লক আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করছে বলেও জানা গিয়েছে।
ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য কমিটির বৈঠক ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে আলোচনা করে দল চূড়ান্ত অবস্থান জানাবে। তারপরেই সিপিএম শরিকদের সঙ্গে ফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবে। সেই বৈঠকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সিপিএম নেতা বিমান বসু, রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমসহ বামফ্রন্টের অন্যান্য নেতারা। এছাড়া সমাজবাদী শিবিরের তরফেও বামফ্রন্টের কাছে কিছু আসনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে শরিক দলগুলির একাংশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা বামফ্রন্টের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতভেদ দ্রুত মিটবে কি না, তা এখনই স্পষ্ট নয়। ফলে বামফ্রন্টের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা থেকেই গেল।
Advertisement



