কথা ছিল উৎসবে মেতে উঠবেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লার বাংলা দল। কিন্তু তার উল্টো ছবিটা এখন বাংলা শিবিরে খেলা করছে। নেমে এসেছে শুধুই নীরবতা। এটা অনেকটা বিসর্জনের ঠিক আগে যে অবস্থা হয়, সেই বিষণ্ণতাই বাংলার সাজঘরে খেলা করছে। রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটের সেমিফাইনাল ম্যাচে তৃতীয় দিনের শেষে আতঙ্কে রইলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ থেকে শুরু করে মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমাররা। এখন যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, কোনও অলৌকিক ঘটনা যদি না ঘটে, তাহলে জম্মু-কাশ্মীরের কাছে বাংলাকে হারতে হবে। শুধু এখন সময়ের অপেক্ষা। যে স্বপ্ন দেখা দিয়েছিল বাংলা ফাইনালে খেলবে, সেই স্বপ্ন হারিয়ে যাওয়ার পথে। কল্যাণীতে মঙ্গলবার ২৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলা শুরু করেছিল বাংলা। অবশ্য তার আগে বাংলার প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রানের জবাবে জম্মু-কাশ্মীর দলের প্রথম ইনিংসের স্কোর দাঁড়ায় ৩০২।
জম্মু-কাশ্মীর ৫ উইকেটে ১৬৮ রান নিয়ে খেলতে নামে। বাংলার সেরা বোলার মহম্মদ শামি পরপর তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও নবম উইকেটে ৬৪ রান যোগ করায় জম্মু-কাশ্মীর শেষ পর্যন্ত ৩০২ রানে ইনিংস শেষ করে। মহম্মদ শামির দুরন্ত বোলিংয়ের কাছেও প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানরা ঘায়েল হলেও, বাংলা বড় রানে এগিয়ে থাকতে পারেনি প্রথম ইনিংসে। ৯০ রানে শামি আটটি উইকেট নিয়েছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই প্রথমবার তিনি এক ইনিংসে আটজন খেলোয়াড়কে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁর অসাধারণ বোলিং মাঠে হাজির থাকা দর্শকরা প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। জম্মু-কাশ্মীরের অধিনায়ক পরস ডোগরা ৫৮ রানে আউট হয়ে যান। অধিনায়ক পরস রঞ্জি ট্রফিতে ১০ হাজার রান পূর্ণ করার কৃতিত্ব দেখালেন। পাশাপাশি আবদুল সামাদ বেশ শক্ত হাতে ব্যাট করছিলেন। সামাদ অল্পের জন্য শতরান থেকে বঞ্চিত হন। সামাদের উইকেটটি তুলে নেন মহম্মদ শামি। তখন তাঁর ব্যক্তিগত রান ছিল ৮২।
Advertisement
বাংলা দ্বিতীয় ইনিংসে খেলা শুরু করলে বিপদের মুখে পড়ে যায়। বাংলার ব্যাটসম্যানরা উইকেটে আসছেন আর প্যাভিলিয়নে ফিরে যাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখতে পেয়ে সবাই হতাশ হয়ে যান। প্রথম ইনিংসে সুদীপকুমার ঘরামি শতরান উপহার দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রান করে মাঠের বাইরে চলে যান। শূন্য রান করেছেন সুদীপ চ্যাটার্জিও। আকাশ দীপের ব্যাট থেকেও কোনও রান আসেনি। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৫ রানে আউট হয়ে যান। অনুষ্টুপ মজুমদার ১২ রানে এবং সুরজসিন্ধু জয়সওয়াল ১৪ রানে পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলেন। শাহবাজ আহমেদ কিছুটা ধরে খেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাও বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। তিনি ২৪ রানে যুধবীর সিংয়ের বলে কানইয়ার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়ান। আশা করা গিয়েছিল, হয়তো মহম্মদ শামির ব্যাট থেকে ভালো রান আসতে পারে। তিনিও হতাশ করলেন। সুনীল কুমারের বলে যুধবীর সিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠের বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ান। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১১ রান।
Advertisement
মুকেশ কুমার ৬ রানে নট আউট থাকে। বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস মাত্র ৯৯ রানের মাথায় শেষ হয়ে যায়। আকিব নবি ও সুনীল কুমার চারটি করে উইকেট নিয়েছেন। আর দুটি উইকেট পান যুধবীর সিং। আকিব প্রথম ইনিংসে পাঁচটি আর দ্বিতীয় ইনিংসে পেলেন চারটি উইকেট। বল যেভাবে উইকেটে সুইং করছিল, তাতে ঘায়েল হয়ে গেলেন বাংলার খেলোয়াড়রা। বাংলার চরম ব্যর্থতায় ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যাওায়ার মুখে। জম্মু-কাশ্মীর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে দিনের শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৩ রান করেছে। জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম দু’টি উইকেট খুব তাড়াতাড়ি পড়ে গেলেও শুভম পান্ডির ও বংশজ শর্মা উইকেটে দাঁড়িয়ে শক্ত হাতে ব্যাট করতে থাকেন। শুভম ২৩ রানে ও বংশজ শর্মা ৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলার আকাশ দীপ প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে দেন শুভম খাজুরিয়া ও হাসান খানকে।
এই খেলার চিত্রনাট্যটা একমাত্র ঈশ্বরই পারেন বদলে দিতে। তাই বাংলার ক্রীড়াপ্রেমীরা হয়তো প্রার্থনা করবেন জয় এনে দেবার জন্য। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর শিবিরে যে প্রত্যাশা খেলা করছে, তা কোনও ভাবেই বদলে দেওয়া কখনওই সম্ভব নয়।
Advertisement



