• facebook
  • twitter
Sunday, 15 February, 2026

‘এসআইআর’ বিতর্কে ক্ষোভ, গোষ্ঠী কোন্দল ভুলে বলাগড়ে তৃণমূলের গর্জন র‍্যালি

শক্তি প্রদর্শনে রাস্তায় হাজার হাজার কর্মী

প্রতীকী চিত্র

‘এসআইআর’ সংক্রান্ত বিতর্কে সাধারণ মানুষকে হয়রানি। বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগকে সামনে রেখে গোষ্ঠী কোন্দল ভুলে একজোট হয়ে শক্তি প্রদর্শনে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার বলাগড় ও সপ্তগ্রাম বিধানসভা জুড়ে বিশাল ‘গর্জন র‍্যালি’ করে দলের নেতা-কর্মীরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কর্মসূচিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ত্রিবেণী টাউনশিপ গোলপার্ক থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল বলাগড়ের ইনসুরা, একতারপুর, হোয়েরা দিগসুই, নকশা মোড়, মগরা ১ নম্বর ও মগরা ২ নম্বর অঞ্চল হয়ে সপ্তগ্রাম বিধানসভার বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে। মোটর সাইকেল ও চারচাকা গাড়ির বিশাল বহর নিয়ে হাজার হাজার কর্মী এই র‍্যালিতে অংশ নেন। দলীয় পতাকা ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

Advertisement

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অরিন্দম গুঁই, চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র, জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী, সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া, প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার, অসীম মাজি, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ রায় বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীন গঙ্গোপাধ্যায়, অশোক পোদ্দার, রুনা খাতুন, পূজা ধর কর্মকার এবং চুঁচুড়া-মগরা ব্লক সভাপতি তাপস চক্রবর্তী-সহ একাধিক নেতা-কর্মী।

Advertisement

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বলাগড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল চলছিল। এর ফলে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিরোধী শক্তি হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি-র প্রভাব বাড়তে থাকে। গত লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জয়ী হলেও বলাগড় ও সপ্তগ্রাম এলাকায় দল পিছিয়ে যায়। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই বিধানসভা ভোটের আগে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ রায় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দল বড় হলে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়। তবে এখন সবাই একজোট। বিরোধীদের আর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার অভিযোগ করেন, ‘এসআইআর’ নিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য নেতা স্বপন পাল পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, ‘মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। র‍্যালি করে আর পরিস্থিতি বদলানো যাবে না।’ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই গর্জন র‍্যালির মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং কর্মীদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দেওয়াই মূল লক্ষ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement