• facebook
  • twitter
Saturday, 14 February, 2026

সংবিধানের কারণে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনে জটিলতা, সোমবার হতে পারে সরকার গঠন

তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

কুড়ি বছর বাদে বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। ২০৯টি আসন পেয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপি জিতলেও সোমবারের আগে ইউনূসের হাত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সংবিধানরে কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার বা মঙ্গলবারের আগে নতুন সরকার গঠন করা যাবে না। সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রীসভার সদস্যরা শপথ নিতে পারবেন। শপথ পাঠ করাতে পারেন দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন।

Advertisement

বাংলাদেশ সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। বিএনপি একা পেয়েছে ২০৯টি আসন এবং জোট মিলিয়ে আসন সংখ্যা ২১২। জামাত এবং তার জোট শরিকেরা পেয়েছে ৭৭টি আসন। অন্যরা পেয়েছে আটটি আসন। সরকারি ভাবে নির্বাচনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে শুক্রবার রাতে। কিন্তু তারপরেও নতুন সরকার গঠন আটকে রয়েছে।

Advertisement

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার বা তাঁর মনোনীত কেউ। কিন্তু বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অনুপস্থিত। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তার পর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। অনেকের মতে তিনি পলাতক।

শপথ পাঠ করানোর জন্য তিনি কাউকে মনোনীতও করেননি। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু জেলবন্দি। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ করলেও স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বা অন্য কেউ দায়িত্ব গ্রহণ না-করা পর্যন্ত আগের স্পিকারই পদে বহাল থাকেন। এ ক্ষেত্রে তাই শপথ পাঠ নিয়ে জটিলতা দেখা গিয়েছে।

স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তিনদিনের মধ্যে শপথ করানোর কথা উল্লেখ রয়েছে সংবিধানে। তিনদিনের মধ্যে শপথ পাঠ করাতে না পাড়লে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সে কারণে সরকারি গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। তাই সোমবার পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। এ ছাড়া এই জটিলতার সমাধানের আর কী বিকল্প আছে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলি যদি কোনও প্রস্তাব দেয়, তা-ও বিবেচনা করে দেখা হবে বলে খবর।

৩৫ বছর পর কোন পুরুষ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসছেন। ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ শেষ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এবার সেই আসনে বসছেন খালেদাপুত্র তারেক রহমান। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে খবর। আর এ কথা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন তারেকের বিদেশ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়াই দেয়নি দু’দেশ।

ইউনূস সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশেরে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। তবে বিএনপির আমলে দুই দেশের সম্পর্কে প্রলেপ পড়বে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। দু’দেশের উন্নত সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই আমন্ত্রণ শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসাবে বর্ণনা করেন কবীর। তিনি এ-ও জানান, মোদী উপস্থিত থাকবেন বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপানউতর শুরু হয়। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে সম্পর্ক আরও কিছুটা খারাপ হয়। বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার গঠিত হলে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

Advertisement