ইরানের তেল পরিবহণে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন দেশের ১৪টি তেলবাহী জাহাজের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাল আমেরিকা। পাশাপাশি ভারত-সহ আটটি দেশের মোট ১৫টি সংস্থা এবং দু’জন ব্যক্তিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, শুক্রবার ওমানে ইরান-আমেরিকার সমঝোতা বৈঠক ছিল। পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে দুই দেশের আধিকারিকদের মধ্যে। ঠিক তার পরেই আমেরিকার তরফে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণাকে কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
মার্কিন বিদেশ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান যে তেল ও পেট্রোরাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করে, তার থেকে পাওয়া রাজস্ব তেহরান সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে এবং নিজের দেশের নাগরিকদের দমন করতে ব্যবহার করে। সেই আর্থিক জোগান বন্ধ করতেই এই নিষেধাজ্ঞা। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোপণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে ১৪টি জাহাজকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানি তেলের ক্রেতা হিসেবে ১৫টি সংস্থা এবং দু’জন ব্যক্তিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে।
Advertisement
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে চিন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাজাখস্তান, সিচেল্স, মার্শাল আইল্যান্ড, বারবাডোস-সহ একাধিক দেশের সংস্থা। ভারতের ক্ষেত্রেও একটি সংস্থার নাম উল্লেখ করেছে আমেরিকা। সেই সংস্থাটি হল এলেভেট মেরিন ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড। অভিযোগ, এই সংস্থা ক্যামেরুনের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘বেনেডিক্ট’-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে ওই জাহাজ অন্তত তিন বার ইরানের তেল পরিবহণ করেছে।
এই সংস্থার মালিক, ভারতীয় নাগরিক আকাশ অনন্ত শিন্ডের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, ইরান বারবার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং সে দেশের সরকারের এই কার্যকলাপ রুখতে ভবিষ্যতেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ওমানের বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি বলেই এই ঘোষণায় ইঙ্গিত মিলছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
Advertisement



