• facebook
  • twitter
Saturday, 7 February, 2026

মুম্বই পুরনিগমে বিজেপির ঋতু তাওড়ে মেয়র মুখের চেয়ে বেশি কিছু

১৯৮২ সালে প্রভাকর পাইয়ের পর এই প্রথম কোনও বিজেপি প্রার্থী ওই পদে বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ বছর পরে শিবসেনা-বহির্ভূত কোনও দলের মেয়র দেখবে শহর।

বৃহন্মুম্বই পুরনিগমে মেয়র পদে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ঋতু তাওড়ের মনোনয়ন নিছক একটি পুর সিদ্ধান্ত নয়— বরং শহরের রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেওয়ার কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে শিবসেনার দখলে থাকা পুরনিগমে বিজেপির এই রাজনৈতিক কৌশল মুম্বইয়ের নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলে নিজেদের প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দু’বারের কাউন্সিলর ঋতু তাওড়ে ঘাটকোপার পূর্বের ১৩২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত। তিনি এর আগে পুরনিগমের শিক্ষা কমিটির চেয়ারপার্সনও ছিলেন। মারাঠি মুখ, সংগঠনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং মহিলা নেতৃত্ব— এই ত্রিসূত্রই বিজেপির বৃহত্তর নির্বাচনী কৌশলের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। মেয়র পদটি সাধারণ মহিলা শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় তাঁর প্রার্থী পদ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Advertisement

তাওড়ে নির্বাচিত হলে চার দশকেরও বেশি সময় পরে প্রথমবারের মতো বিজেপির মেয়র পেতে পারে মুম্বই। ১৯৮২ সালে প্রভাকর পাইয়ের পর এই প্রথম কোনও বিজেপি প্রার্থী ওই পদে বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ বছর পরে শিবসেনা-বহির্ভূত কোনও দলের মেয়র দেখবে শহর।

Advertisement

এদিকে একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা ডেপুটি-মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে সঞ্জয় ঘাডিকে। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ২২৭ জন নির্বাচিত কাউন্সিলরের ভোটে মেয়র ও ডেপুটি-মেয়র নির্বাচন হবে। মহাযুতি জোটের হাতে বর্তমানে স্পষ্ট সদস্য— বিজেপির ৮৯ ও শিবসেনার ২৯ জন মিলিয়ে মোট ১১৮জন কাউন্সিলর। বিরোধী শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে শিবির)-এর ৬৫, কংগ্রেসের ২৪ এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে ২০ জন রয়েছে।

২০২২ সালের মার্চ থেকে প্রশাসকের হাতে রয়েছে পুরনিগম। এবার প্রায় চার বছরের প্রশাসনিক শাসনের অবসান ঘটবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে। জানুয়ারিতে ২৯টি পুরনিগমে মহাযুতি জোটের বড় জয়ের পর মুম্বই পুরনিগম দখল বিজেপির কাছে শুধু সাংগঠনিক সাফল্য নয়, আসন্ন রাজ্য রাজনীতির দিক থেকেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রার্থী হিসেবে ঋতু তাওড়ে বিজেপির ‘মারাঠি–কোঙ্কনি–হিন্দু’ পরিচয়কে সামনে এনে শহুরে ভোটব্যাঙ্কে নতুন সমীকরণ গড়ার প্রয়াস শুরু হয়েছে। ফলে এই নির্বাচন কেবল পুর প্রশাসনের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুম্বইয়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিশা নির্ধারণেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Advertisement