রিলস বানানোই ছিল নেশা। দু’মাস পরেই এপ্রিলে স্কুলের ইউনিট টেস্ট থাকলেও নাচ ও অভিনয়ের বিভিন্ন বানিয়ে চলেছিল নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী। পড়াশোনায় মন না দিয়ে মোবাইল আর রিলসেই বুঁদ থাকায় মায়ের বকুনির পর আত্মঘাতী হল সে। বুধবার সকালে মালদার গাজোল থানার আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের কদুবাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত ছাত্রীর নাম সুমি টুডু (১৫)। সে গাজোলের শিউচাঁদ পরমেশ্বর বিদ্যামন্দিরের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে ঘরের ভিতর থেকে সুমির মুখ দিয়ে গাঁজলা বেরোতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি তাকে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বাড়িতে রাখা কীটনাশক খেয়েই আত্মঘাতী হয়েছে ওই ছাত্রী।
Advertisement
মৃত সুমির বাবা মণ্ডল টুডু পেশায় কৃষক। মা মনি সোরেন সংসারের দায়িত্ব সামলান। তিন কন্যাসন্তানের মধ্যে সুমি ছিল সবার ছোট। বড় দুই মেয়ের ইতিমধ্যেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে পরিবার জানিয়েছে, স্কুল ও গৃহশিক্ষকের পড়া ফাঁকি দিয়ে মাঝেমধ্যেই বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে রিলস বানাতে যেত সুমি।
Advertisement
পরিবারের অভিযোগ, গত দু’দিন ধরেও গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে যাওয়ার কথা বলে বন্ধুদের সঙ্গে রিলস বানাচ্ছিল সে। বিষয়টি জানতে পেরে গৃহশিক্ষক অভিযোগ করলে মঙ্গলবার সকালে মেয়েকে কড়া বকাবকি করেন মা। অভিযোগ, সেই ঘটনার পর রাতেই বাড়িতে রাখা কীটনাশক খেয়ে ফেলে সুমি।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, শুধু অভিভাবকদের বকাবকিই নয়, এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে। প্রেমঘটিত বিষয় কিংবা মানসিক চাপের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত ছাত্রীর মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মোবাইলের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
সুমির বাবা মণ্ডল টুডু বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় চাষের কাজে ব্যস্ত থাকি। প্রথমে মেয়ে পড়াশোনায় ভালোই ছিল। গত বছর ফল খারাপ হওয়ায় স্ত্রী একটু কড়া নজরে রেখেছিল। গত বছরই মেয়েকে নতুন মোবাইল কিনে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই ও সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে থাকত। মা-মেয়ের মধ্যে মাঝেমধ্যেই অশান্তি হতো। কিন্তু মায়ের বকুনিতে মেয়ে বিষ খাবে, এটা আমি মানতে পারছি না।’
এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মনোবিদরাও। মালদার বিশিষ্ট মনোবিদ এম কে মাহাতো বলেন, ‘বর্তমানে অল্প বয়সেই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব টিনএজারদের উপর খুব বেশি পড়ছে। না পাওয়া, বকুনি বা মান-অভিমানের জেরে অনেক সময় তারা চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছে। স্কুলপড়ুয়া ও অভিভাবক—দু’পক্ষেরই নিয়মিত কাউন্সেলিং খুব প্রয়োজন।’
Advertisement



