কলেজ তহবিলের অর্থ তছরুপের অভিযোগ। অবসরের ঠিক এক দিন আগেই সাসপেন্ড হলেন পুরুলিয়া জেলার ঝালদা অচ্ছুরাম স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ অরূপকান্তি কোনার। ৩০ জানুয়ারি কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কলেজ তহবিলের টাকা ব্যবহার করে নিজের জীবনবিমার প্রিমিয়াম দেওয়া, টেন্ডার বিধি লঙ্ঘন করে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে কম্পিউটার কেনা এবং অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি তথা বাঘমুন্ডির তৃণমূল বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো জানান, ‘বিধি মেনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগগুলি ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশনকে জানানো হয়েছিল। তিনি কলেজের গভর্নিং বডিকেই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই অধ্যক্ষকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Advertisement
সূত্রের খবর, অভিযোগ অনুযায়ী অধ্যক্ষ নিজের নামে জীবনবিমার প্রিমিয়াম কলেজ তহবিল থেকে পরিশোধ করেছেন। পাশাপাশি পড়ুয়াদের কাছ থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন খাতে আদায় করা অর্থ নিয়ম অনুযায়ী কলেজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে সরাসরি খরচ করা হয়েছে। যদিও পরে ওই অর্থের একটি অংশ অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু বিধি অনুযায়ী, পড়ুয়াদের থেকে সংগৃহীত সমস্ত টাকা আগে কলেজের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে তারপর চেকের মাধ্যমে ব্যয় করার নিয়ম রয়েছে।
Advertisement
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার না ডেকে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে কম্পিউটার কেনা ও কলেজের পাঁচিল মেরামতির কাজ করানো হয়েছে। এমনকি কলেজ তহবিল থেকে নিয়মিত ট্র্যাভেলিং অ্যালাউন্স নেওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত অর্থও তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
কলেজের ফিন্যান্স কমিটি কিছুদিন আগেই এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়গুলি গভর্নিং বডির নজরে আনে বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ অরূপকান্তি কোনার অবশ্য নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, ‘যে জীবনবিমা পলিসির কথা বলা হচ্ছে, তা কলেজের প্যান নম্বর দিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ারের নামে করা হয়েছিল। পরে জানতে পারি, সেটি আমার ব্যক্তিগত নামে হয়ে গিয়েছে।’
পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘গভর্নিং বডির সভাপতিকে সব সময় পাওয়া যেত না। চেকে সই করানো সম্ভব না হলে জরুরি প্রয়োজনে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলা যেত না। তাই কিছু ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের থেকে সংগৃহীত অর্থ সরাসরি খরচ করতে হয়েছে। তবে আমার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের জবাব তদন্ত কমিটির সামনে দেব।’
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওয়েবকুটার জেলা সম্পাদক অভিজিৎ ঘোষ বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি নতুন নয়। তদন্তের স্বার্থে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।’ ওয়েবকুপার জেলা সভানেত্রী সাধনা খাওয়াসের বক্তব্য, ‘আইন আইনের পথেই চলুক, এটাই আমাদের দাবি।’
অবসরের ঠিক আগে এই সাসপেন্ডের ঘটনায় কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষামহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকেই এখন সকলের নজর।
Advertisement



