• facebook
  • twitter
Wednesday, 4 February, 2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রুখতে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ বিবেক ওবেরয়

বিবেক ওবেরয়ের আবেদনে আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, তাঁর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও পরিচিতি ব্যবহার করে তৈরি সব ভুয়ো কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও ভুয়ো বিজ্ঞাপনে নিজের নাম–ছবি ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। তাঁর দাবি, অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর কণ্ঠস্বর, ছবি ও পরিচিতি নকল করে ভুয়ো পণ্যের প্রচার চালানো হচ্ছে, যা সরাসরি তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন করছে।

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে বিবেক ওবেরয়ের অভিযোগ, সম্প্রতি একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন সব ভুয়ো বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাঁর মুখ ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এই ধরনের ভুয়ো প্রচারের ফলে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

Advertisement

অভিনেতার তরফে আরও জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এই ভুয়ো ভিডিও ও অডিও সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে বহু মানুষ ধরে নিচ্ছেন, ওই সব পণ্যের সঙ্গে তিনি সত্যিই যুক্ত। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপব্যবহার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement

বিবেক ওবেরয়ের আবেদনে আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, তাঁর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও পরিচিতি ব্যবহার করে তৈরি সব ভুয়ো কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অপব্যবহার রুখতে কড়া নির্দেশ জারি করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও আবেদন করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই মামলাটি শুধুমাত্র একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের ফলে সেলিব্রিটি ও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত পরিচিতি সুরক্ষিত রাখা ক্রমশই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

দিল্লি হাই কোর্টে মামলাটি গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারে আইনি সীমারেখা আরও স্পষ্ট হতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Advertisement