নিপাহ ভাইরাসের মতো প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির খবর সামনে এল। জাপানের একদল গবেষক মানুষের উপর নিপাহ টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর ঘোষণা করেছেন। আগামী এপ্রিল মাসে বেলজিয়ামে এই টিকার প্রথম পর্যায়ে মানবদেহে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এই টিকা নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে বড় সাফল্য হতে পারে। কারণ, বর্তমানে নিপাহ সংক্রমণের বিরুদ্ধে কোনও অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমিত হলে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে চিকিৎসকদের অনুমান।
Advertisement
এই টিকার বিশেষত্ব হল, হামের ভাইরাসের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের জিনগত তথ্যের একটি অংশ সংযোজন করে টিকাটি তৈরি করা হয়েছে। টিকা মানবদেহে প্রবেশ করলে নিপাহ ভাইরাসের মতো অ্যান্টিজেন প্রোটিন তৈরি হয়, যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সংক্রমণের উপসর্গ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
Advertisement
গবেষক দল ইতিমধ্যেই প্রাণীদেহে—বিশেষ করে হ্যামস্টারের উপর—পরীক্ষায় এই টিকার সুরক্ষা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। মানবদেহে সুরক্ষা যাচাইয়ের জন্য প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে মোট ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেবেন।
এই আবহেই উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত দু’টি নিশ্চিত ঘটনার কথা জানা গিয়েছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলির কাছে এই গবেষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে নিপাহ টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে। সেখানে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি প্রায় ৩০০ জনের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও নিপাহ ভাইরাসকে অগ্রাধিকারভুক্ত রোগের তালিকায় রেখেছে। মূলত বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়ায়। দূষিত খাবার, শূকর বা আক্রান্ত মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। মানবদেহে এই রোগ কখনও উপসর্গহীন হলেও, অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের এই মানবদেহে টিকা পরীক্ষার উদ্যোগ নিপাহ মোকাবিলায় ভবিষ্যতে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
Advertisement



