• facebook
  • twitter
Thursday, 29 January, 2026

জ্বালানি সরবরাহে আকাসা এয়ারের সঙ্গে সমঝোতা ইন্ডিয়ান অয়েলের

আকাসা এয়ারের তরফেও জানানো হয়েছে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই পরিচালন ব্যবস্থার দিকেই ভবিষ্যতের বিমান পরিষেবা এগোবে।

দেশের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটল। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত শক্তি সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) এবং দেশের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া বিমান সংস্থা আকাসা এয়ারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল একটি ‘লেটার অফ ইনটেন্ট’ বা সমঝোতা-পত্র। ‘উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬’ আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনী ও সম্মেলনের মঞ্চে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য হল, ভবিষ্যতে বিমান জ্বালানি ব্যবহারের জন্য একটি সহযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে আকাসা এয়ারের পরিবেশবান্ধব ও শক্তিশালী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তব রূপ দিতে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন জ্বালানি সরবরাহ ও পরিকাঠামোগত সহায়তা দিতে পারে। সেই পথই খুলে গেল এই চুক্তির মাধ্যমে।

Advertisement

সমঝোতা অনুযায়ী, দুই সংস্থা যৌথভাবে মূল্যায়ন করবে, কত পরিমাণ বিমান জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব, কোন কোন বিমানবন্দরে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে, কোন সময়সীমার মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে পারে এবং কোন ধরনের পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ও উৎপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

Advertisement

পরিবেশবিদ ও বিমান শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বিমান জ্বালানি এমন এক প্রযুক্তিগত পথ, যা বিমান পরিবহণে কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। সাধারণ বিমান জ্বালানির তুলনায় এই ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করলে পুরো জীবনচক্রে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়। ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে বিমান শিল্পকে ‘নেট-জিরো নিঃসরণ’ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের বিমান জ্বালানি ব্যবসার দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক শৈলেশ ধর বলেন, ‘এই সমঝোতা আমাদের কম-কার্বন জ্বালানি বিস্তারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা শুধু জ্বালানি উৎপাদন নয়, সরবরাহ ও পরিবহণ পরিকাঠামো— সব ক্ষেত্রেই আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের জ্বালানি রূপান্তরের যাত্রায় সহযোগী হতে চাই। টেকসই বিমান জ্বালানির প্রাথমিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা কার্যকর ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।’

অন্যদিকে, আকাসা এয়ারের তরফেও জানানো হয়েছে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও টেকসই পরিচালন ব্যবস্থার দিকেই ভবিষ্যতের বিমান পরিষেবা এগোবে। এই সমঝোতা সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই একটি বাস্তব পদক্ষেপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল বিমান পরিবহণ বাজারে এই ধরনের উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষার দিক থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক উড়ান নীতিতে কার্বন নির্গমন সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম চালু হলে, টেকসই বিমান জ্বালানি ব্যবহারের প্রস্তুতি থাকা বিমান সংস্থাগুলিই এগিয়ে থাকবে প্রতিযোগিতায়।

সব মিলিয়ে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন ও আকাসা এয়ারের এই সমঝোতা শুধু দুই সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা নয়, বরং ভারতের বিমান শিল্পে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবেই দেখছেন শিল্পমহল।

Advertisement