• facebook
  • twitter
Thursday, 29 January, 2026

নিউ টাউনে হুমায়ুন–সেলিম সাক্ষাৎ ঘিরে তোলপাড় সিপিএম

এক বৈঠকেই বাড়ছে দলের তীব্র অন্তর্কলহ

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

তিন দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দেখেছে সিপিএম। ১৯৯৬ সালে জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রিত্বে যেতে না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত, ২০০৮ সালে পরমাণু চুক্তির বিরোধিতায় ইউপিএ-১ সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার, ২০১৬ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আব্বাস সিদ্দিকি–নওশাদ সিদ্দিকিদের দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা— প্রতিটি ক্ষেত্রেই দলের অন্দরে তীব্র মতভেদ ছিল। কিন্তু প্রবীণ সিপিএম নেতারাও মানছেন, নিউ টাউনের একটি হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠকের মাত্র একটি বৈঠক ঘিরে যে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এমন প্রবল বিতর্ক ও অস্বস্তি দলের মধ্যে তৈরি হয়নি।

বুধবার রাতে ওই বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দলের অন্দরমহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর একাংশ সরাসরি সেলিমের ভূমিকা ও ‘উদ্দেশ্য’ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। একাধিক সদস্য একান্ত আলোচনায় রাজ্য সম্পাদককে কার্যত কাঠগড়ায় তুলেছেন। অভিযোগ, প্রতি বুধবার নিয়মিত রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক হয়। যথারীতি গত বুধবারও সেই বৈঠক হয়েছে। অথচ সেই বৈঠকে সেলিমের হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে নিউ টাউনের হোটেলে সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়নি।

Advertisement

রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক প্রবীণ সদস্যের বক্তব্য, ‘কেন সম্পাদককেই যেতে হল? কেন আগে দলে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা গেল না? এমন কী গোপনীয়তা ছিল যে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীকে এড়িয়ে গিয়ে হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করতে হল?’ এই প্রশ্নই এখন দলের অন্দরমহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

Advertisement

দলের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও সমষ্টিগত সিদ্ধান্তের পরম্পরার বিরোধী। তাঁদের মতে, সিপিএমের রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নয়, বরাবরই কমিটি-ভিত্তিক আলোচনার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক দিশা নির্ধারিত হয়েছে। সেই প্রথা ভেঙে কোনও একক বৈঠক যদি রাজনৈতিক বার্তা দেয়, তা দলের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস তৈরি করতেই পারে।

ফলে একটি বৈঠক ঘিরেই সিপিএমের অন্দরমহলে তৈরি হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। একদিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সমষ্টিগত সিদ্ধান্তের প্রশ্ন, অন্যদিকে আধুনিক রাজনৈতিক কৌশলের যুক্তি— এই দুইয়ের সংঘাতে রাজ্য নেতৃত্বের ভিতরেই স্পষ্ট বিভাজনরেখা ফুটে উঠছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক কেবল একটি বৈঠক নিয়ে নয়, বরং দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও নেতৃত্বের ধরন নিয়েই গভীর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

Advertisement