শনিবার সকালে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে কুচকাওয়াজের মহড়া চলছিল। সেই সময় মহড়ায় আচমকা ঢুকে পড়ে একটি বিলাসবহুল গাড়ি। গার্ডরেল ভেঙে গাড়িটি ঢুকে পড়ে বলে খবর। সূত্রের খবর গাড়িটি রেড রোডের দিক থেকে পার্ক স্ট্রিটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ।
সেই সময় গাড়িটি গতি বাড়িয়ে দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের গার্ডরেলে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। ধাক্কার লাগার ফলে গাড়িটির বাঁদিকের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Advertisement
শনিবার ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে সাতটা হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেই সময় আচমকাই কালো রঙের অক্টাভিয়া গাড়িটি ওই কুচকাওয়াজের মহড়ার দিকে ধেয়ে আসে। গার্ডরেলে ধাক্কা দিয়ে থেমে যায় গাড়িটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িটিতে ৩-৪ জন কমবয়সি ছেলেমেয়ে ছিলেন। গাড়ির গতিও ছিল অনেক বেশি।
Advertisement
দুর্ঘটনার পরই গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। ময়দান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িচালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়িটির বিমা এবং দূষণের শংসাপত্রের মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে। বৈধ নথি ছাড়াই গাড়িটি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গাড়ির নথিপত্র ছিল না বলেই কি চালক পালানোর চেষ্টা করেন, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনাস্থল এই রেড রোড। ঘড়ির কাঁটায় তখন সময় হবে সকাল ৬টা থেকে ৬টা ১০ মিনিট। সেই সময়েও প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে মহড়ার চলছিল। আর তার মাঝে ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েছিল একটি বেপরোয়া গাড়ি। খিদিরপুর রোড থেকে প্রচণ্ড গতিতে একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে রেড রোডে আসে অডি গাড়িটি। উত্তর কলকাতার দিকে যাওয়ার পথে বাধা রয়েছে বুঝতে পেরে সাম্বিয়া জে কে আইল্যান্ডের কাছ থেকে গাড়িটি ঘুরিয়ে নেয়। সেই গাড়ির ধাক্কার মৃত্যু হয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনার অফিসার অভিমন্যু গৌড়ের।
তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন আরজেডি বিধায়ক মহম্মদ সোহরাবের পুত্র আম্বিয়া এবং সাম্বিয়া সোহরাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ওই গাড়ির পিছনে একটি স্কোডা গাড়িতে ছিল তার দুই সঙ্গী জনি ও শানু। তারাই সাম্বিয়াকে পার্ক স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যায়। এর পর শানু ও সাম্বিয়া মিলে অন্য একটি গাড়ি করে শহরের বাইরে পালানোর চেষ্টা করে। খড়গপুর থেকে প্রথমে ঝাড়খণ্ড এবং পরে দিল্লিতে পালানোর চেষ্টা করে। তবে শেষরক্ষা হয়নি। দিল্লি থেকে সাম্বিয়াকে গ্রেপ্তার কররে গোয়েন্দা পুলিশ।
Advertisement



