কলকাতা শহরের যানজটের সবচেয়ে বড় কারণগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে অবৈধ পার্কিং। দিনের ব্যস্ত সময়ে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানোর জেরে নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে অফিসযাত্রী, সকলকেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ এই বিশৃঙ্খলা রুখতেই নতুন বছরের শুরুতে কড়া পদক্ষেপে নেওয়া শুরু করল। এই বেআইনি পার্কিং পুরোপুরি বন্ধ করতে ইতিমধ্যেই ডালহৌসি চত্বরে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডালহৌসির পাশাপাশি রেড রোড এলাকাতেও নজরদারি বাড়াচ্ছে লালবাজার। রেড রোডের দুই ধারে যেখানে ফাঁকা জায়গা বা কাট-আউট রয়েছে, সেখানে গেট বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কাজে দ্রুত অনুমতি পেতে পূর্ত দপ্তর, সাউথ ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি এবং সেনা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই কাজ শেষ করতে চাইছে প্রশাসন।
Advertisement
সেই উদ্দেশ্যে গত বুধবার কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা ডালহৌসি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে রাস্তার উপর যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানো বন্ধ করতে এবং দুর্ঘটনা কমাতে রাস্তার মাঝ বরাবর রেলিং বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের মতে, রেলিং বসলে যেমন অবৈধ পার্কিং কমবে, তেমনই পথচারীদের বেপরোয়া ভাবে রাস্তা পার হওয়াও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
Advertisement
উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর অবৈধ পার্কিং সমস্যা নিয়ে জেলা নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে কলকাতা পুরসভাকে কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ দেয় পুলিশ। বলা হয়, হেমন্ত বসু সরণি, এনএস রোড, আরএন মুখার্জি রোড-সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নতুন রেলিং বসানোর পাশাপাশি পুরোনো রেলিং মেরামতির কথাও বলা হয়। পুলিশের যুক্তি, নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া রাস্তা পারাপার বন্ধ করা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
তবে বাস্তবে তিলোত্তমার যানজটের ছবিটা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। ডালহৌসির বিভিন্ন জায়গায় ফুটপাতের উপর গাড়ি তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। কোথাও বড় অফিসের ঢোকার মুখে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাইক। ট্র্যাফিক পুলিশের একাংশের মত, শুধু অভিযান চালালেই হবে না। নিয়ম ভাঙলে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং কড়া ব্যবস্থা নিলেই শহরের এই দীর্ঘদিনের অবৈধ পার্কিং সমস্যায় লাগাম টানা সম্ভব হবে।
এদিকে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের সদর দপ্তর থেকে আপাতত তিনটি রাস্তার উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে— নেতাজি সুভাষ রোড, ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস এলাকা এবং বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট। এই রাস্তাগুলিতে নিয়মিত টহল দিয়ে দুই বা তিন সারিতে গাড়ি পার্ক করার প্রবণতা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। পুলিশের দাবি, রাস্তার উপর এই বেআইনি দখল সরানো গেলে যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
Advertisement



