• facebook
  • twitter
Saturday, 24 January, 2026

হাসিনার অবসরের ইঙ্গিত দিলেন জয়

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনাপুত্র কার্যত ইঙ্গিতই দিলেন, শেখ হাসিনা আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না

ফাইল ছবি

সত্যিই কি শেষ হতে চলেছে শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়? বাংদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কি এবার অন্তরালেই থেকে রাজনৈতিক অবসরের পথে হাঁটবেন? এই জল্পনাকে নতুন করে উসকে দিলেন তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনাপুত্র কার্যত ইঙ্গিতই দিলেন, শেখ হাসিনা আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না।

আমেরিকায় বসবাসকারী জয় জানান, তাঁর মায়ের বয়স হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই ছিল তাঁর শেষ মেয়াদ। জয়ের কথায়, শেখ হাসিনা আগেই অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সাক্ষাৎকারে সঞ্চালক প্রশ্ন করেন, একে কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়? উত্তরে কোনও রাখঢাক না রেখেই জয় বলেন, ‘সম্ভবত তাই’। এই মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়েছে, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরলেও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে হয় শেখ হাসিনাকে। তারপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। কিছুদিন আগে এক বাংলা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছিলেন, তিনি ভয় পেয়ে দেশ ছাড়েননি। বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, গণতন্ত্র পূর্ণভাবে ফিরলে, আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠলে এবং অবাধ নির্বাচন হলে তিনি দেশে ফিরতে চান।

Advertisement

সেই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শোনালেও, জয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ধরা পড়েছে ভিন্ন সুর। আমেরিকা থেকে তিনি কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোনও পরিস্থিতিতেই তাঁর মা আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না।

তবে জয় স্পষ্ট করেছেন, শেখ হাসিনা না ফিরলেও আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে থাকবে। তাঁর দাবি, দলের এখনও ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ হঠাৎ করে সমর্থন ফিরিয়ে নেবে না বলেই তাঁর মত। জয়ের কথায়, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দলগুলির একটি, যার ইতিহাস প্রায় ৭০ বছরের।

হাসিনাহীন আওয়ামী লীগ সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে জয় বলেন, দল ব্যক্তি নির্ভর নয়। মা থাকুক বা না থাকুক, আওয়ামী লীগ চলবে। তবে ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্ব কে দেবেন, কিংবা নিজে রাজনীতির হাল ধরবেন কিনা— সে প্রশ্নের এখনও কোনও উত্তর মেলেনি।

Advertisement