• facebook
  • twitter
Friday, 23 January, 2026

নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগে সবুজ সংকেত, হাইকোর্টের নির্দেশে সিলমোহর শীর্ষ আদালতের

সরাসরি শূন্যপদের ১২টির মধ্যে তফসিলি জাতি, জনজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি-র জন্য একটি করে পদ সংরক্ষিত ছিল।

প্রতীকী চিত্র

নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জট কাটল অবশেষে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। নিম্ন আদালতের ২৯টি শূন্যপদে সিভিল জাজ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছিল। শুক্রবার সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আপত্তি খারিজ করে দেওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনও বাধা রইল না।

নিম্ন আদালতের বিচারক পদের শূন্যস্থান ও সংরক্ষণ নীতি ঘিরে এই মামলা করা হয়। ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মোট ২৯টি শূন্যপদের কথা জানিয়েছিল। এর মধ্যে সরাসরি শূন্যপদ বা ক্লিয়ার ভ্যাকেন্সি ছিল ১২টি। পাশাপাশি আসন্ন শূন্যপদ বা অ্যান্টিসিপেটেড ভ্যাকেন্সি ছিল ১৭টি। কোন শ্রেণিতে কতগুলি পদ সংরক্ষিত থাকবে, তাও ওই বিজ্ঞপ্তিতেই স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছিল।

Advertisement

সরাসরি শূন্যপদের ১২টির মধ্যে তফসিলি জাতি, জনজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি-র জন্য একটি করে পদ সংরক্ষিত ছিল। বাকি আটটি পদ ছিল অসংরক্ষিত। অন্যদিকে আসন্ন ১৭টি শূন্যপদের ক্ষেত্রে তফসিলি জাতির জন্য দুটি, জনজাতির জন্য একটি, ওবিসি-এ-র জন্য দুটি এবং ওবিসি-বি-র জন্য একটি পদ রাখা হয়। বিশেষ ভাবে সক্ষম প্রার্থীদের জন্যও একটি পদ সংরক্ষিত ছিল। এই পর্যায়ে মোট ১০টি পদ ছিল অসংরক্ষিত।

Advertisement

বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় মূলত তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথমে প্রারম্ভিক পরীক্ষা, তারপর মূল লিখিত পরীক্ষা এবং শেষে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটি মেধাতালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়। মামলাকারীদের দাবি ছিল, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব শূন্যপদ একসঙ্গে ধরে নিয়োগ করা উচিত ছিল। তাঁদের মতে, তাতে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি হত এবং আরও প্রার্থীর চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারত।

এই যুক্তি অবশ্য কলকাতা হাই কোর্টে গ্রহণযোগ্য হয়নি। উচ্চ আদালত জানিয়েছিল, সরাসরি ও আসন্ন শূন্যপদ আলাদা করে নিয়োগই আইনসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত। বিজ্ঞপ্তিতে এই শর্ত আগে থেকেই উল্লেখ ছিল বলে প্রার্থীরা তা জানতেন। ফলে পিএসসি-র সিদ্ধান্তে কোনও ত্রুটি নেই বলে মন্তব্য করে আদালত।

সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য ছিল বর্তমান এবং ভবিষ্যতের শূন্যপদ আলাদা না করে এক সঙ্গে করা উচিত। কারণ, সে ক্ষেত্রে মেধাতালিকা ধরে পুরোটা নিয়োগ করা যেত। এমনকি, ওবিসিদের জন্য অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি হত। তাঁরাও নিয়োগে সুযোগ পেতেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট মামলা খারিজ করার ফলে এই নিয়োগ স্বাভাবিক ভাবে চলবে। আর কোনও জট রইল না।’

Advertisement