আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থাত হু থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বছর আগেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে আমেরিকা। ব্লুমবার্গের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাস্থ্য দপ্তর সমস্ত আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা হু-র অফিস থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন স্বাস্থ্যসচিব রবার্ট এফ কেনেডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যৌথভাবে এই ঘোষণা করেন। তাঁরা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তাঁরা যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যর্থতাই যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার প্রধান কারণ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী দিনে হু-র সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ সীমিত থাকবে। তাঁরা আরও জানান, হু-র জন্য আমেরিকার সমস্ত আর্থিক অনুদান ইতিমধ্যেই বন্ধ করা হয়েছে।
Advertisement
বৃহস্পতিবারের এই ঘোষণার মাধ্যমে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথমবার হু-এর সদস্যপদে নেই যুক্তরাষ্ট্র। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের আরও অভিযোগ, এই সংস্থার উপর অন্য দেশের প্রভাব রয়েছে। সেই কারণে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে আমেরিকার বকেয়া রয়েছে ২৬ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ২৪০০ কোটি টাকা)। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দেশ সদস্যপদ ত্যাগ করতে চাইলে এক বছর আগে নোটিস দিতে হয় এবং বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দিতে হয়। তবে আমেরিকা এই নিয়ম অস্বীকার করেছে।
Advertisement
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২০২৩ সালে হু-কে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছিল আমেরিকা। এই সংস্থা বিশ্বব্যাপী রোগনির্ণয়, রোগনির্মূল, পোলিও নির্মূলকরণ, প্রসূতি ও শিশুদের পুষ্টির মতো বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করে। তাই আমেরিকার সরে যাওয়া বিশ্ব জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তারা হু-এর সঙ্গে সীমিত মাত্রায় কাজ চালিয়ে যাবে, কিন্তু পূর্ণ সদস্যপদ আর রাখবে না। এদিকে হু জানিয়েছে, ২০২৪-২৫-এর ফি আমেরিকা দেয়নি। যদিও এই অভিযোগকে আমল দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার ফলে অর্থসংকট দেখা দিতে পারে এই আশঙ্কায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ব্যয় সংকোচনের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার মহাপরিচালক তেড্রোস আদহনম ঘেব্রেইসুস। চলতি মাসের শুরুতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অর্থের ঘাটতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই কিছু ক্ষেত্রে কাটছাঁট করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বৃহস্পতিবার জানান, সব দিক বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর হু-এর কাজে অংশ নিচ্ছে না। তবে কিছু আইনি বিষয়ের এখনও মীমাংসার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দুজারিক বলেন, ‘আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্র হু-এর কাজে আবার পূর্ণ অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে ফিরে আসুক, যেমন আমরা প্রত্যেক দেশের ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা করে থাকি।’ দুজারিক আরও বলেন, ‘ স্বাস্থ্য এমন এক বিষয়, যার কোনও সীমান্ত নেই—এটি কোনও ভৌগোলিক সীমানা মানে না। সেই কারণেই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কাজে সব দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ট্রাম্প ২০২৫-এর ২০ জানুয়ারি, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে মার্কিন আইনে থাকা একটি ধারা অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত তখন কার্যকর হয়নি। নির্ধারিত সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার পর চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া।
Advertisement



