দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মহানায়ক, আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের ১২৯তম জন্মজয়ন্তীতে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি নেতাজির দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বগুণকে স্মরণ করে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। নিজের বার্তায় কিরেন রিজিজু লেখেন, ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু শুধুই একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নন, তিনি ছিলেন এক অদম্য চেতনার প্রতীক। তাঁর সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মবলিদান আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এই মহান নেতার জন্মজয়ন্তীতে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
নেতাজির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে একাধিক স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক মঞ্চে নেতাজির আদর্শ, আজাদ হিন্দ আন্দোলনের ইতিহাস এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা, ‘দিল্লি চলো’ আহ্বান এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নেতাজির আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
রাজনৈতিক মহলের মতে, নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে কিরেন রিজিজুর এই শ্রদ্ধার্ঘ্য শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা জাতীয়তাবাদী চেতনা, দেশপ্রেম ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণের একটি স্পষ্ট বার্তাও বহন করছে। বর্তমান প্রজন্মের সামনে নেতাজির আদর্শকে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও একে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আজও ভারতীয় জাতিসত্তার এক শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর আদর্শ— আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা, সাহসিকতা, জাতীয় ঐক্য, আত্মমর্যাদা আজও ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে গভীর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। ১২৯তম জন্মজয়ন্তীতে নেতাজিকে স্মরণ শুধু ইতিহাসচর্চা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও বয়ে আনছে— এই মতই উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।
Advertisement



