ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট শিল্পে আইপিও ঘিরে নতুন গতি তৈরি করল ফোন পে। সংস্থাটি ভারতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সেবি)-র কাছে তাদের আপডেটেড ডিআরএইচপি (ড্রাফট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস) জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থার আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উল্লেখযোগ্য তথ্য। গত অর্থবর্ষে ফোন পে প্রায় ৪০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি করেছে, যা তাদের ব্যবসায়িক মডেলের শক্ত ভিত ও বাজারে স্থিতিশীল অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
ডিআরএইচপি আপডেট হওয়ার অর্থ, ফোন পে আইপিও-র প্রস্তুতিকে আরও বাস্তব ও পরিকাঠামোগত উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের সামনে সংস্থার ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা, আর্থিক স্থিতি ও ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ তুলে ধরার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ফোন পে’র ৪০ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি শুধুমাত্র ইউপিআই লেনদেনের উপর নির্ভরশীল নয়। সংস্থার আয় কাঠামো এখন বহুমুখী— ডিজিটাল পেমেন্ট, মার্চেন্ট সলিউশন, কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন, বিল পেমেন্ট, ইনস্যুরেন্স ও আর্থিক পরিষেবা বিতরণ, এবং ডেটা-ড্রিভেন ফিনটেক পরিষেবা, সব মিলিয়ে একটি বৈচিত্র্যময় রাজস্ব ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে। এই বহুমাত্রিক মডেলই ফোন পে’কে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মত বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের।
Advertisement
ব্যবসায়িক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ফোন পে’র সবচেয়ে বড় শক্তি হল তার ইউজার বেস ও মার্চেন্ট নেটওয়ার্কের দ্রুত বিস্তার। শহরকেন্দ্রিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রামীণ ও আধা-শহুরে অঞ্চলেও ফোন পে’র উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে শুধু লেনদেনের পরিমাণ নয়, প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরশীলতার মাত্রাও ক্রমশ বাড়ছে।
আইপিও প্রক্রিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে, আপডেটেড ডিআরএইচপি জমা দেওয়া মানে সংস্থাটি এখন বাজারের বাস্তবতা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা— এই তিনটির সমন্বয়ে নিজেদের আর্থিক কাঠামো সাজাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ৪০ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি ফোন পে’র ব্র্যান্ড ভ্যালু ও মার্কেট ট্রাস্টকে আরও শক্তিশালী করবে, যা আইপিও-র সময় মূল্যায়ন (ভ্যালুয়েশন) নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ফিনটেক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন পে এখন আর শুধু একটি পেমেন্ট অ্যাপ নয়, এটি ধীরে ধীরে ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য পরিকাঠামো হিসেবে পরিণত হচ্ছে। আপডেটেড ডিআরএইচপি এবং শক্তিশালী আর্থিক বৃদ্ধি একসঙ্গে ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফোন পে’ তাদের আইপিও’কে কেবল মূলধন সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্পোরেট ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি হিসেবে দেখছে।
সব মিলিয়ে, সেবির কাছে আপডেটেড ডিআরএইচপি জমা দেওয়া এবং ৪০ শতাংশ বাৎসরিক বৃদ্ধির তথ্য স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে— ফোন পে এখন আইপিও-র পথে শুধু প্রস্তুত নয়, বরং শক্ত ভিত, স্থিতিশীল ব্যবসায়িক মডেল এবং স্পষ্ট ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাজারে প্রবেশ করতে চলেছে।
Advertisement



