• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ফের অস্বস্তিতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

অভিযুক্ত বর্তমান উপাচার্যও

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বার বার শিরোনামে উঠে আসছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বেআইনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে প্রায় দু’কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগে যখন তদন্ত ও মামলা চলছে, ঠিক সেই সময়েই ফের নতুন করে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ফিন্যান্স অফিসারের বিরুদ্ধে এ বার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই মামলার আবেদনকারী বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-র প্রাক্তন অধ্যক্ষ অভিজিৎ মিত্র। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্যের কার্যকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। শুধু আর্থিক লেনদেন নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক বেনিয়ম হয়েছে বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাস একটি স্বীকৃত হেরিটেজ ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসে স্ক্র্যাপ বা অন্য কোনও সামগ্রী বিক্রি করতে হলে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নিয়ম অমান্য করেছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ২০২৩ সালের অডিট রিপোর্টে এজি বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত করলেও তা নিয়ে উপাচার্য ও ফিন্যান্স অফিসারের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

Advertisement

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এমন কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোতেই নেই। অভিযোগ রয়েছে, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে একই দিনে দু’টি পৃথক পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে তিনি দু’টি জায়গা থেকে বেতন পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর পেনশনও বহাল রাখা হয়েছে। অথচ রাজ্য সরকারের ২০১৭ সালের বিধি অনুযায়ী এই ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি।

সোমবার অভিজিৎ মিত্র জানান, ‘বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এখন দুর্নীতির এক খোলা আখড়া। বিষয়গুলি জানিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরে বার বার চিঠি দেওয়া হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি।’ তিনি মামলায় সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন। আগেই পাঠানো অভিযোগপত্রগুলিকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করার আর্জি করেছেন।

অন্যদিকে, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য শঙ্করকুমার নাথ দাবি করেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। মামলার কাগজ এখনও আমাদের হাতে আসেনি। এলে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’

Advertisement