• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

একটিও নাম বাদ নয়, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জেলাশাসকদের বার্তা মমতার

বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, অধিকাংশ তথ্যগত অসঙ্গতির ঘটনা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকেই উঠে আসছে এবং সব ক্ষেত্রে সমস্যা মেটানো সম্ভব হবে না।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

একটিও নাম বাদ নয়, এসআইআর ঘিরে নবান্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জেলাশাসকদের স্পষ্ট বার্তা মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি— বর্তমান বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মধ্যেই মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর ডাকে হওয়া এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক শুরুর আগেই জেলাশাসকদের মোবাইল ফোন বাইরে জমা রাখতে বলা হয়, যা প্রশাসনিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও জল্পনা বাড়িয়েছে।

Advertisement

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন—‘তথ্যগত অসঙ্গতি’র নামে একজন ভোটারের নামও যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। তিনি জেলাশাসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি জানি আপনারা চাপের মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু ভয়ের কোনও কারণ নেই। আগে যেমন পাশে ছিলাম, এখনও আছি। শুধু নিশ্চিত করবেন, কারও নাম যেন বাদ না পড়ে।’

Advertisement

উল্লেখ্য, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তথ্যগত অসঙ্গতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। ভোটারদের জমা দেওয়া নথির রসিদ দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে। দলের অন্দরে ধারণা, তালিকা প্রকাশ হলে ক্যাম্পের মাধ্যমে ধরে ধরে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, অধিকাংশ তথ্যগত অসঙ্গতির ঘটনা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকেই উঠে আসছে এবং সব ক্ষেত্রে সমস্যা মেটানো সম্ভব হবে না। তাদের অনুমান, শেষ পর্যন্ত বহু নাম বাদ পড়তে পারে, যা রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি করবে।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নবান্নের বৈঠককে প্রস্তুতি বৈঠক হিসেবেই দেখছেন প্রশাসনিক মহল। জেলাশাসকদের বলা হয়েছে, জেলায় ফিরে মহকুমা শাসক, বিডিও-সহ সব স্তরের আধিকারিকদের এই বার্তা পৌঁছে দিতে। ভবিষ্যতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ত্রুটিযুক্ত ভোটারদের সহায়তায় ক্যাম্প করার পরিকল্পনাও হতে পারে।

তবে কারা তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকায় রয়েছেন, কতজনের নাম আদৌ বাদ পড়তে পারে— এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। নবান্নের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরও সেই ধোঁয়াশাই থেকে গেল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

Advertisement