• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

কমিশন কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, তা জানতে চেয়ে সরব তৃণমূল

এসআইআর-এর নামে সফটওয়্যার ইনটেনসিভ রিগিং চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন

সোমবার তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলায় মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে কমিশনকে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে বড়সড় জয় হিসেবেই দেখছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা দাবি সুপ্রিম কোর্টে  মান্যতা পেয়েছে বলে দাবি শাসকদলের। আর এই জয়ের পরেই মঙ্গলবার নতুন অভিযোগে সরব হল জোড়াফুল শিবির। এসআইআর-এর নামে সফটওয়্যার ইনটেনসিভ রিগিং চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।

এদিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে একাধিক প্রশ্ন তুলে জবাব চাইলেন তৃণমূল সাংসদরা। তৃণমূলের দাবিকে শীর্ষ আদালত সিলমোহর দিয়েছে সে কথা মনে করিয়ে কমিশনের সঙ্গে তৃণমূল প্রতিনিধিদের বৈঠকের ট্রান্সক্রিপশন প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন ডেরেক ও সাগরিকারা। তথ্যগত অসঙ্গতির পর এবার কমিশনের সফটওয়্যার নিয়ে ধোঁয়াশার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন তাঁরা।

Advertisement

মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক ইস্যুতে কমিশনের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুললেন ডেরেক ও সাগরিকারা। তাঁদের মতে,  এসআইআর-এর সফটওয়্যারে রিগিং চলছে। বাদ দেওয়া হচ্ছে ভোটারের নাম। তাই কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সফটওয়্যারে নাম জানানোর দাবি তুলেছেন সাংসদরা।

Advertisement

একইসঙ্গে অমিত শাহের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কাজ করছেন বলেও আবার সরব হন তৃণমূল কংগ্রেস। ডেরেক বলেন, ‘কমিশন  হল চামচা। ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অমিত শাহর কো-অপারেশন সচিব ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। ৩৭০ ধারা বিলোপের সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি কে ছিলেন? এই ভ্যানিশ৷’ এই প্রসঙ্গে কমিশন ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলাকে টার্গেট করার অভিযোগে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার সাগরিকা ঘোষ।

তাঁর কথায়, ‘এসআইআর বিহারে শুরু হলেও আসল টার্গেট ছিল বাংলা। এই রাজ্যের ভোটারকে বাদ দিতে নানারকম ব্যবস্থা চলছে। নির্বাচন কমিশন আগে দেখত যাতে সবাই ভোট দিতে পারে। এখন ভোটারদের বাদ দিতে উদ্যোগী কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ভোটদানের অধিকার প্রদান করছে না, তারা অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে৷ যারা দেশের বৈধ নাগরিক, তাদের হয়রান করা হচ্ছে কেন? নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে ডাকা হয়েছে, জাতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ সামিকে ডাকা হয়েছে ৷’

গত ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করে। সেই বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ডেরেক ও ব্রায়েন ট্রান্সক্রিপশন প্রকাশের দাবি জানান। কমিশনকে কটাক্ষ করে বলেন,‘আজ ৫১ দিন হল, নির্বাচন কমিশনে গত নভেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম দরবার করার সময় থেকে ওই সব বৈঠকের ট্রান্সস্ক্রিপ্ট কোথায়? অবিলম্বে ট্রান্সস্ক্রিপ্ট প্রকাশ করা হোক৷ নির্বাচন কমিশন হল হোয়াটসঅ্যাপের মাস্টার৷ তারা না হয় হোয়াটসঅ্যাপেই প্রকাশ করবে।’

Advertisement