ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে তীব্র অসন্তোষে ফেটে পড়লেন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকের বুথ লেভেল অফিসার অর্থাৎ বিএলও-রা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কাজের পদ্ধতির প্রতিবাদে প্রায় ২০০ জন বিএলও একযোগে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আবার বিডিও অফিসে এসআইআর-এর শুনানি চলাকালীন ভাঙচুর করার ঘটনায় উত্তাল হয়েছে ফরাক্কা। বিডিও-র অফিসে একাধিক চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে একদলের বিরুদ্ধে। শুনানি কেন্দ্রে এই ভাঙচুরের ঘটনায় সিইও দপ্তরের তরফে ডিএম ও ডিইও-কে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যে বিডিও-র তরফেও থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। আপাতত ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতের মধ্যে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ফরাক্কার বিডিও-র কেন্দ্রে শুনানি চলাকালীন উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ একদল মানুষ জোর করে বিডিও দপ্তরে ঢুকে পড়ে। তারপরেই চলে ভাঙচুর। এমনকি দপ্তরে উপস্থিত কয়েকজন সরকারি কর্মীকে মারধরও করা হয়। ভাঙচুর চালানোর সময় বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ নিয়মিত যে শুনানির নাম করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের হয়রানি করা হচ্ছে তা একেবারেই উচিত নয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করেই এদিন বিক্ষোভ চালানো হয়। ঘটনা চলাকালীন সেখানে উপস্থিত ফরাক্কার বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
Advertisement
আবার এদিন ফরাক্কা ও বেলডাঙ্গায় গণইস্তফা দেন শতাধিক বিএলও। ফরাক্কার বিএলওদের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশিকা বারবার বদলানো হচ্ছে। প্রথমে এক ধরনের কাজের কথা বলা হলেও পরে নতুন নতুন শর্ত ও নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার উপর নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ ঠিকমতো কাজ না করায় তথ্য আপলোড করতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কমিশনের সার্ভারে সমস্যা থাকায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিএলও-দের দাবি, এইভাবে কাজ চললে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াবে এবং ভোটার তালিকার উপর আস্থা নষ্ট হবে।
Advertisement
যদিও জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ইস্তফা পত্রগুলি এখনও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএলওদের কাজে ফেরার আবেদন জানানো হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ফারাক্কার এই গণইস্তফা ও বিডিও দপ্তরে ভাঙচুরের ঘটনা সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
Advertisement



