রণজিৎ দাস
গতবছর সন্তোষ ট্রফি ফুটবলে কোচ অক্ষয় দাসের প্রশিক্ষণে ওড়িশা দল কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলার কাছে হেরে ছিটকে যায়। তাই এবার আবার বাংলার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হলে, বদলা নেওয়া কথা ভাবছেন। ভারতীয় ফুটবলে বাংলার অবস্থান অনেক উঁচুতে। তাদের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়া বেশ কঠিন। তবে সুযোগ পেলে বাংলার বিরুদ্ধে ভালো ফল করতে চান। সন্তোষ ট্রফিতে সেমিফাইনালে পৌঁছনো ওড়িশার খেলোয়াড়দের প্রধান লক্ষ্য। ছেলেদের চাকরির যোগ্যতার মানে যাওয়া আর ভালো খেললে ভারতীয় ফুটবলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে।
Advertisement
টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির দায়িত্বের পর, এখন ওড়িশা ফুটবলের টিডি। এদিকে সন্তোষ ট্রফির কোচের দায়িত্ব পেয়ে বিচলিত নন তিনি। আসলে কোচ অক্ষয় দাসের নতুন চ্যালেঞ্জ। ফুটবল পরিকাঠামো উন্নতি হচ্ছে। কটক লিগ হয়। তবে কলিঙ্গ স্টেডিয়ামের মতো মাঠে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ কম আছে। জেলা ফুটবল থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে, সন্তোষ ট্রফির মতন দেশের সেরা টুর্নামেন্টে তাদের খেলতে দেখা যাবে। গতবার বাংলার কাছে হারলেও, কোচ সঞ্জয় সেন ওড়িশার লড়াইকে বাহবা দিয়েছিলেন। এটা বড় পাওনা। নিজে সন্তোষ ট্রফি খেলেছেন। বর্তমান সময়ের সন্তোষ ট্রফির বিবর্তনের কথা বলতে কোচের অভিমত, গতবারের সন্তোষ ট্রফিতে অনেক রাজ্য দল উঠে এসেছে। উত্তরাখণ্ড এবার জাতীয় গেমস চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। তারপরে নাগাল্যান্ড, রাজস্থান ও গুজরাটের মত রাজ্যে ফুটবলচর্চা বেড়েছে। দেশের ফুটবলের এই পরিবর্তনের প্রতিফলন সন্তোষ ট্রফিতে দেখা যাবে। অতীতে বাংলা, কেরল, পাঞ্জাব, গোয়া ও কর্নাটকের মতো দলগুলোর সঙ্গে, অন্যদের অনেক ফারাক ছিল। এখন সেই দূরত্ব কমেছে।
Advertisement
তবে সেই সময় দেশের সেরা ফুটবলাররা সন্তোষ ট্রফিতে খেলতেন। এখন দেশের কমবয়সি ছেলেরাই বেশি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, তারকা ফুটবলারের তকমা পেতে নিজের লক্ষ্য ধরে রাখার কঠিন লড়াই বজায় রেখে যেতে হয়। বর্তমানে ফুটবল কাঠামোয় অনেক পরিবর্তন এসেছে। একজন ফুটবলার এক মরশুমে একাধিক রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পায়। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন লেভেলের ফুটবল খেলার সুযোগ করে নেওয়াই কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই সুযোগ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে, ভালো লেভেলে খেলার সুযোগ আসবে। তবেই সে নাম করতে পারবে। ওড়িশা দলে অরবিন্দ লাকরা, অর্পন লাকরা, কার্তিক হান্তাল, অবিনাশ মুরলি, হরিশঙ্কর নায়েক, রাহুল মুখী— অনেক ভালো ভালো কোয়ালিটির ছেলে রয়েছে। এই মুহূর্তে বর্ধমানের ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপের ফাইনাল খেলবে ওড়িশার ফুটবলাররা। তারপর রাজ্যে ফিরে গিয়ে দেখতে হবে কাদের সন্তোষ ট্রফি দলে শেষপর্যন্ত পাওয়া যায়। কিছু ছেলের চোট ছিল। তারা কতটা ফিট হতে পারল বা কাদের সঙ্গে আইএসএল দলের চুক্তি আছে— এইসব দেখেই চূড়ান্ত দল গঠন করা হবে।
ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স যেকোনও দলের কাছে বড় হাতিয়ার। সেই আত্মবিশ্বাস দলকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে।
Advertisement



